রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলায় তিস্তা নদীর তীব্র স্রোতে মহিপুর সেতুর রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে, যা সেতু এবং রংপুর-কাকিনা আঞ্চলিক সড়কের স্থিতিশীলতাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। শনিবার সন্ধ্যার পর নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেতুর উত্তর-পশ্চিম প্রান্তে ধস শুরু হয় এবং রাত পর্যন্ত অন্তত ৩০ মিটার এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাঙনের ফলে সেখানে প্রায় ৬০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে, যা সেতু ও সড়ক যোগাযোগের জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে। পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে যেকোনো সময় মহিপুর সেতুর সঙ্গে কাকিনাগামী সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এলাকাবাসী জানান, গত বছরও একই বাঁধের প্রায় ১০০ ফুট অংশ নদীতে বিলীন হয়েছিল। সে সময় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) প্রায় ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁশের পাইলিং করে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে। তবে স্থায়ী ও টেকসই কোনো প্রতিরোধ ব্যবস্থা না নেওয়ায় এবারের প্রবল স্রোতে সেই কাঠামো ভেঙে গেছে।
লক্ষ্মীটারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, আগের ভাঙনের সময় বাঁধে ব্লক স্থাপন করে শক্তিশালী করার অনুরোধ জানানো হলেও তা কার্যকর হয়নি। তার দাবি, অপরিকল্পিত উদ্যোগ ও অর্থের অপচয়ের ফলেই বর্তমান পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সেতুর অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়বে।
গঙ্গাচড়া উপজেলা এলজিইডি কার্যালয়ের প্রকৌশলী শাহ মো. ওবায়দুর রহমান জানান, গত বছর বিশেষজ্ঞ দলের পরামর্শ অনুযায়ী পাইলিং করা হয়েছিল। নতুন করে ভাঙনের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জেসমিন আক্তারও ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।
তিস্তা নদী বরাবরই উত্তরাঞ্চলে ভাঙনপ্রবণ হিসেবে পরিচিত। বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধি পেলে নদীর তীরবর্তী অবকাঠামো ও বসতবাড়ি ঝুঁকিতে পড়ে। সাম্প্রতিক এই ভাঙন পরিস্থিতি আবারও নদী ব্যবস্থাপনা ও টেকসই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা সামনে নিয়ে এসেছে।