দেশের বস্ত্রশিল্প খাত বর্তমানে কর কাঠামোর বৈষম্যের কারণে চাপের মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ করছেন উদ্যোক্তারা। তৈরি পোশাক খাতে করহার ১২ শতাংশ থাকলেও বস্ত্রকল মালিকদের জন্য তা প্রায় ২৭.৫ শতাংশ নির্ধারিত হওয়ায় একই শিল্পের ভেতর দ্বৈত নীতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে স্থানীয় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি কাঁচামাল আমদানির ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে তৈরি পোশাক খাত বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে বড় ভূমিকা রাখলেও এর ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ হিসেবে বস্ত্রশিল্প কাঁচামাল সরবরাহ করে থাকে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, নিট পোশাক খাতের ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ এবং ওভেন খাতের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ কাঁচামাল স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। অবশিষ্ট অংশ চীন, কোরিয়া ও ভারতের মতো দেশ থেকে আমদানি করা হয়।
পূর্বে বস্ত্র ও পোশাক খাত উভয়ই কর সুবিধা পেয়ে আসলেও সময়ের সঙ্গে তা পরিবর্তিত হয়েছে। ২০০৫-০৬ অর্থবছর থেকে বস্ত্রখাতে ১৫ শতাংশ করহার কার্যকর ছিল, যা পরে কমিয়ে ১২ শতাংশ করা হয়। তবে সেই সুবিধার মেয়াদ শেষ হওয়ায় বর্তমানে বস্ত্রকল মালিকরা সাধারণ করপোরেট করহারের আওতায় পড়েছেন। অন্যদিকে পোশাক খাতের জন্য কর সুবিধা ২০২৮ সাল পর্যন্ত বহাল রয়েছে।
বস্ত্রশিল্প মালিকদের সংগঠনের নেতারা বলছেন, একই শিল্পের দুটি অংশের জন্য ভিন্ন করহার রাখা হলে প্রতিযোগিতায় ভারসাম্য নষ্ট হয়। তাদের মতে, উচ্চ করের কারণে স্থানীয়ভাবে সুতা ও কাপড় উৎপাদন ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে, ফলে পোশাক কারখানাগুলো আমদানির দিকে ঝুঁকতে পারে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখার ফলে এই বৈষম্য আরও স্পষ্ট হয়েছে। উদ্যোক্তারা দাবি করছেন, অন্তত ২০৩০ সাল পর্যন্ত বস্ত্রখাতে কর সুবিধা পুনর্বহাল করা হলে শিল্পটি টিকে থাকতে পারবে।
অর্থনীতিবিদরাও মনে করছেন, রফতানিমুখী শিল্পের টেকসই প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ খাতকে শক্তিশালী করা জরুরি। একই শিল্পের ভেতরে ভিন্ন করহার থাকলে উৎপাদন শৃঙ্খল দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বিটিএমএর তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ১ হাজার ৭০০টি বস্ত্রকল চালু রয়েছে। তবে জ্বালানি সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং নীতিগত জটিলতার কারণে অনেক কারখানার উৎপাদন কমে গেছে, এমনকি বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধও হয়ে গেছে। এ পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের কাছ থেকে দ্রুত সমাধান প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।