যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর গত দুই মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজ আন্তর্জাতিক জলপথে চলাচল শুরু করেছে বলে জানিয়েছে জাহাজ পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন সংস্থা। বিশ্লেষকদের মতে, এ পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক তেলবাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ট্যাংকার ট্র্যাকার্সের তথ্য অনুযায়ী, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির (এনআইটিসি) মালিকানাধীন তিনটি ট্যাংকার তেল নিয়ে অবরোধ-পরবর্তী রুটে যাত্রা করেছে। এর মধ্যে ‘হিরো ২’ এবং ‘ডিওনা’ নামের দুটি ভিএলসিসি (Very Large Crude Carrier) শ্রেণির সুপারট্যাংকার প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছে এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
এছাড়া ‘সোনিয়া ১’ নামের একটি সুয়েজম্যাক্স ট্যাংকার প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেল নিয়ে সিঙ্গাপুরমুখী যাত্রা করছে বলে জানানো হয়েছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে বলা হয়েছে, অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশটির বন্দরগুলো থেকে তেলবাহী ও পণ্যবাহী কয়েকটি জাহাজ আন্তর্জাতিক জলসীমার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। তেহরান এই ঘটনাকে সাম্প্রতিক কূটনৈতিক অগ্রগতির একটি বাস্তব ফলাফল হিসেবে দেখছে।
ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি বলেছেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধ প্রত্যাহার দীর্ঘদিন ধরেই তেহরানের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল। তার ভাষ্য অনুযায়ী, আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগেই অবরোধ শিথিলের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের অনুমোদনের কথা জানান।
প্রেক্ষাপট হিসেবে উল্লেখ করা যায়, চলতি বছরের শুরুতে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধির পর হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরবর্তীতে বিভিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরি হয়। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় আলোচনার অগ্রগতির পর অবরোধ শিথিলের সিদ্ধান্ত সামনে আসে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি তেল পুনরায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ বৃদ্ধি পেতে পারে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দামে নিম্নমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে, যা বিশ্ববাজারে সরবরাহ বৃদ্ধির প্রত্যাশার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।