মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত বন্ধে একটি প্রাথমিক চুক্তি ইতোমধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এর বিস্তারিত তথ্য খুব শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। এই চুক্তিকে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে।
সোমবার (১৬ জুন) জি৭ শীর্ষ সম্মেলনের সময় ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, চুক্তিটি সম্পূর্ণভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এটি নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জানান, চুক্তির আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান জেনেভায় অনুষ্ঠিত হবে এবং ওই দিনই হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চুক্তির আওতায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা চলতি সপ্তাহেই শুরু হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে নিষেধাজ্ঞা শিথিলকরণ বা অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়টি ইরানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের ওপর নির্ভর করবে বলে মার্কিন পক্ষ জানিয়েছে।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, দুই দেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি (এমওইউ) আকারে সংক্ষিপ্ত এবং প্রাথমিক কাঠামো নির্ধারণে ব্যবহৃত একটি দলিল। তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ আলোচনায় আরও বিস্তারিত বিষয় নির্ধারণ করা হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কাঠামোর মাধ্যমে ইরান চুক্তির শর্ত পূরণ করলে সংশ্লিষ্ট সুবিধা পেতে পারবে।
নথির প্রাথমিক অংশে ইরান আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখা এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোকে অর্থায়ন বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। পাশাপাশি, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার একটি যাচাইযোগ্য অঙ্গীকারও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প, ভ্যান্স এবং ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ইলেকট্রনিকভাবে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। চুক্তির আরও বিস্তারিত তথ্য বুধবারের মধ্যে প্রকাশ করা হতে পারে, যদিও ট্রাম্প জানিয়েছেন পূর্ণাঙ্গ দলিল শুক্রবারের আনুষ্ঠানিকতার পর প্রকাশ করা হবে।
এই সমঝোতার ফলে বর্তমান যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হবে। এই সময়ের মধ্যে উভয় পক্ষ একটি চূড়ান্ত ও বিস্তৃত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে। এদিকে, মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ জানান, এই চুক্তির ফলে লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে চলমান সামরিক কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।