যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির একটি চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে এই চুক্তি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং চুক্তির পরবর্তী ধাপগুলো সম্পন্ন করতে পাকিস্তান উভয় পক্ষের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শুক্রবার (১২ জুন) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শেহবাজ শরিফ বলেন, যুদ্ধ বন্ধে এমন পর্যায়ে আলোচনা আগে কখনও পৌঁছায়নি। তাঁর এই মন্তব্যে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্কের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান এখন একটি সম্ভাব্য সমঝোতার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে।
এর আগে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচিও একই ধরনের ইঙ্গিত দিয়ে জানান, তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরের সম্ভাবনা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন বেশি। তবে তিনি গণমাধ্যমকে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার আগে অনুমাননির্ভর খবর প্রকাশ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, স্বচ্ছতা বজায় রেখে উপযুক্ত সময়ে সব তথ্য জনসাধারণের সামনে তুলে ধরা হবে।
অন্যদিকে, সম্ভাব্য এই চুক্তি নিয়ে প্রকাশিত কিছু শর্তকে ‘ভুয়া’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, প্রকাশিত শর্তগুলোর সঙ্গে প্রকৃত আলোচনার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইরানের সঙ্গে কাজ করা অত্যন্ত জটিল এবং তাদের সঙ্গে সৎভাবে কাজ করার সুযোগ সীমিত।
চলতি সপ্তাহেই দুই দেশের মধ্যে টানা দুই দিন সামরিক উত্তেজনা দেখা যায়, যা পরিস্থিতিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে। তবে এর মধ্যেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ বন্ধে একটি প্রাথমিক সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর আগে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত একটি হামলা স্থগিত করার কথাও জানান, যা কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনাকে জোরদার করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যদি এই চুক্তি বাস্তবায়িত হয়, তাহলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কেই নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক স্থিতিশীলতায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।