দেশের উত্তরবঙ্গে খ্রিষ্টান মিশনারি সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক, শিক্ষামূলক ও মানবিক কার্যক্রমের পাশাপাশি ধর্মীয় প্রচার-প্রচারণা এবং মুসলিমদের ধর্মান্তরিত করণও পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পারিবারিক নানা সংকটের কারণে অনেক সময় মুসলিমরা মিশনারিদের প্রভাব দ্বারা আকৃষ্ট হয়ে পড়েন। বিশেষ করে দরিদ্রতা, বেকারত্ব, শিক্ষার অভাব, চিকিৎসাসেবার সংকট এবং সামাজিক অবহেলা অনেক সময় মানুষকে দুর্বল অবস্থানে নিয়ে যায়। যখন কেউ দীর্ঘদিন মৌলিক চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হন, তখন তিনি বিভিন্ন ধরনের সহায়তা বা আশ্বাসের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হতে পারেন।
অনেক মুসলিম পরিবারে দ্বীনি শিক্ষার ঘাটতিও একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। কুরআন-সুন্নাহ সম্পর্কে পর্যাপ্ত জ্ঞান না থাকা, ইসলামের মৌলিক আক্বিদাহ ও বিশ্বাস সম্পর্কে দুর্বল ধারণা এবং ধর্মীয় চর্চা থেকে দূরে থাকা কিছু মানুষকে বিভ্রান্তির ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। ফলে তারা বিভিন্ন মতাদর্শ বা ধর্মীয় প্রচারণার মুখে নিজেদের অবস্থান দৃঢ়ভাবে উপস্থাপন করতে পারেন না।
সামাজিক বিচ্ছিন্নতা ও অবহেলাও একটি বড় কারণ। সমাজের দরিদ্র, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী বা প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ অনেক সময় নিজেদেরকে মূলধারার বাইরে মনে করেন। তাদের পাশে নিয়মিতভাবে কেউ না দাঁড়ালে বা প্রয়োজনের সময় সহযোগিতা না পেলে তারা এমন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, যারা তাদের খোঁজখবর নেয় এবং সহায়তা প্রদান করে।
মুসলমানদের প্রথম করণীয় হলো নিজের ঈমান, আকীদা ও দ্বীনি জ্ঞানকে শক্তিশালী করা। কুরআন-সুন্নাহর সঠিক শিক্ষা অর্জন, নিয়মিত নামাজ আদায়, ইসলামী আদর্শ অনুযায়ী জীবন পরিচালনা এবং পরিবারের সদস্যদের দ্বীনি শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার মাধ্যমে একজন মুসলিম নিজের বিশ্বাসকে সুদৃঢ় করতে পারেন।
দারিদ্র্য, অশিক্ষা ও সামাজিক অবহেলা অনেক সময় মানুষকে বিভিন্ন প্রভাবের মুখে দুর্বল করে তোলে। তাই মুসলিম সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের উচিত দরিদ্র ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, শিক্ষা ও চিকিৎসা সহায়তায় এগিয়ে আসা এবং সমাজে কল্যাণমূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করা। এতে মানুষের প্রয়োজন পূরণ হবে এবং তারা নিজেদের সমাজ ও ধর্মীয় পরিচয়ের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে সম্পৃক্ত থাকবে।
সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও মুসলিমদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে । মসজিদ, মাদরাসা, ইসলামী সংগঠন ও স্থানীয় সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলো যদি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও মানবিক সহায়তার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করে, তাহলে সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী অধিক উপকৃত হবে।
সর্বোপরি এক্ষেত্রে সাধারণ মুসলমানদের আরও সচেতন থাকতে হবে। যাতে দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থা এবং নানা সুযোগ সুবিধার বিষয়ে প্রভাবিত করে কোনো মুসলিমকে তারা ধর্মান্তরিত করতে সফল না হয়।