ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির একটি হোটেলে সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন এক বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হয়েছে। সর্বশেষ এই মৃত্যুর ফলে দুর্ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দিল্লি পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের ডেপুটি কমিশনার অনন্ত মিত্তালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (১০ জুন) এআইআইএমএস ট্রমা সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই বাংলাদেশি নারীর মৃত্যু হয়। অগ্নিকাণ্ডে তিনি গুরুতরভাবে দগ্ধ হয়েছিলেন এবং তার শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে গিয়েছিল বলে জানা গেছে।
গত ৩ জুন স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে দিল্লির মালব্যনগর এলাকার বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বিঅ্যান্ডবি) হোটেলের বেসমেন্টে অবস্থিত লেমন গ্রিন রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে পাঁচতলা ভবনের বিভিন্ন অংশে, ফলে হোটেলে অবস্থানরত অতিথিরা আটকা পড়েন।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলেই অন্তত ২১ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে বিভিন্ন দেশের নাগরিক ছিলেন, যাদের অধিকাংশই বিদেশি। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাসিন্দা নূরুল আমিন সোহাগও ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
অগ্নিকাণ্ডের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সহায়তায় অর্ধশতাধিক আহত ব্যক্তিকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হোটেলটিতে বাংলাদেশ, নেপালসহ প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশের নাগরিক অবস্থান করছিলেন। চিকিৎসা, ব্যবসা ও অন্যান্য ব্যক্তিগত কাজে তারা দিল্লিতে এসেছিলেন বলে জানা গেছে। আগুন লাগার সময় অনেক অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন, যা হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত রোববার গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক নাইজেরীয় নাগরিকের মৃত্যু হলে এ ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ২২ জনে পৌঁছায়। সর্বশেষ বাংলাদেশি নারীর মৃত্যুর পর সেই সংখ্যা বেড়ে ২৩ জন হয়েছে।