নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বামনী নদীতে ক্লোজার বাঁধের নির্মাণকাজ দৃশ্যমান পর্যায়ে এসেছে। মঙ্গলবার (৯ জুন) তীব্র স্রোত ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পিডিএল বাঁধের মূল কাঠামো দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এই বাঁধ স্থায়ী হলে কোম্পানীগঞ্জ ও কবিরহাট উপজেলার প্রায় ৯ লাখ মানুষের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততার সমস্যা থেকে মুক্তি মিলবে।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) 'নোয়াখালী জেলার বামনী নদী অববাহিকার বন্যা ব্যবস্থাপনা ও নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন' প্রকল্পের আওতায় এই বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে। প্রকল্পের লক্ষ্য জলাবদ্ধতা দূর করা, লবণাক্ত পানির প্রবেশ রোধ, মিঠাপানি সংরক্ষণ এবং কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বাড়ানো।
বামনী ক্লোজার বাঁধটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৪১৫ মিটার এবং গভীরতা প্রায় ১০ মিটার। নির্মাণ সম্পন্ন হলে ১৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ৯ লাখ মানুষ সুবিধা পাবেন এবং প্রায় ২৮০ কোটি টাকার সম্পদ সুরক্ষিত হবে। বিশেষ করে ২০২৪-২৫ সালে বন্যার পর তিন থেকে চার মাস জলাবদ্ধতায় ভুগতে হয়েছিল এই এলাকাগুলোকে। আগে নির্মিত ১৯-ভেন্ট রেগুলেটরের পরও ক্লোজার বাঁধ না থাকায় জোয়ার-ভাটার প্রভাব অব্যাহত ছিল, ফলে কৃষিজমি ও বসতবাড়ি বারবার প্লাবিত হতো।
নোয়াখালী পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রেফাত জামিল জানান, নকশা অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে কাজ শুরুর পরিকল্পনা থাকলেও জনদুর্ভোগ কমাতে মে-জুনের চ্যালেঞ্জিং মৌসুমেই বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং চলতি মাসের মধ্যেই কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা রাখেন। পিডিএলের প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, মাত্র তিন মাসে প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যে বাঁধের মূল কাঠামো এই পর্যায়ে আনা সম্ভব হয়েছে। প্রকল্পের সামগ্রিক কাজ ২০২৭ সালের জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।