কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইকে ইসরাইলপন্থী প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সুস্পষ্ট কৌশল দিয়েছেন ইসরাইলি এআই গবেষক ড. মায়া অ্যাকারম্যান। মার্কিন ইহুদি কমিটিকে (এজেসি) দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেছেন, সামাজিক মাধ্যমে ইসরাইল সমর্থকরা সুযোগ হাতছাড়া করার পর এআই এখন ইসরাইলপন্থী বয়ান নিয়ন্ত্রণের এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। তার এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
অ্যাকারম্যানের যুক্তি হলো, এআই কোম্পানিগুলো এখন শুধু ইন্টারনেটের কাঁচা ডেটার ওপর ভিত্তি করে নয়, বরং 'অ্যালাইনমেন্ট' পদ্ধতির মাধ্যমে তাদের মডেলের আউটপুট নির্ধারণ করছে। অর্থাৎ চ্যাটবট ও টেক্সট-টু-ইমেজ মডেলগুলো এখন মূলত সেটাই দেখাচ্ছে, যা কোম্পানিগুলো দেখাতে চায়। তাই উইকিপিডিয়া বা সামাজিক মাধ্যমের বিশাল দুনিয়া নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা না করে সরাসরি এআই কোম্পানিগুলোর কাছে প্রযুক্তিগত ও প্রচারণামূলক সমাধান নিয়ে যাওয়ার পথ খোলা আছে বলে তিনি মনে করেন।
তথ্যের উৎস হিসেবে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবের দিকেও ইঙ্গিত করেন তিনি। তার মতে, মানুষ এখন গুগলের চেয়ে চ্যাটজিপিটি ও জেমিনির মতো চ্যাটবটকে বেশি বিশ্বাস করছে এবং তরুণ প্রজন্ম বিপুল সংখ্যায় এই বটগুলো ব্যবহার করছে। ফলে এআই দ্রুত তথ্যের প্রধান উৎসে পরিণত হচ্ছে।
অ্যাকারম্যান তার কৌশলকে 'ইহুদি-বিদ্বেষ' মোকাবিলা ও ইহুদিদের সঠিক উপস্থাপনের উপায় হিসেবে ব্যাখ্যা করলেও বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বক্তব্য আসলে এআই সিস্টেমে ইসরাইল, ফিলিস্তিন এবং ইসরাইলি নীতির সমালোচনাকে প্রভাবিত করার উদ্যোগেরই প্রকাশ। টিকটকসহ সামাজিক মাধ্যমে গাজা সংঘাতে বিশ্বজুড়ে ইসরাইলের পক্ষে জনসমর্থনে ধস নামার পরিপ্রেক্ষিতে এই কৌশলগত পদক্ষেপকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।