গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের রুদ্রপুর এলাকায় এক ব্যবসায়ীর নিকট ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং শারীরিক লাঞ্ছনার অভিযোগে সাব্বির আহমেদ শামীম (৩০) নামে এক স্থানীয় যুবদল নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) সকালে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনতা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন। গ্রেপ্তারকৃত শামীম ওই এলাকার আরফান আলীর ছেলে এবং ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বরত বলে জানা গেছে। ঘটনার প্রেক্ষিতে জমির মালিক নুরুদ্দিন খন্দকার খোকন বাদী হয়ে জয়দেবপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ব্যবসায়ী নুরুদ্দিন খন্দকার খোকন তার মালিকানাধীন ১১ দশমিক ৫৫ শতাংশ জমিতে বালু ভরাটের কাজ শুরু করলে সাব্বির আহমেদ শামীম ও তার সহযোগীরা সেখানে বাধা প্রদান করেন। অভিযোগ উঠেছে, গত ৭ জুন বিকেলে শামীম দেশীয় অস্ত্রসহ দলবল নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন এবং টাকা না দিলে কাজ বন্ধ রাখার হুমকি দেন। পরদিন সকালে পুনরায় কাজ শুরু হলে তারা আবারও হামলা চালিয়ে নুরুদ্দিনকে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় স্থানীয়রা চিৎকার শুনে এগিয়ে এসে শামীমকে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হলেও তার সহযোগীরা পালিয়ে যায়।
তবে অভিযুক্ত সাব্বির আহমেদ শামীম তার বিরুদ্ধে আনা চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বালু ভরাটের কাজ তাদের পারিবারিক জমির ওপর দিয়ে পরিচালিত হওয়ায় তিনি বাধা দিয়েছিলেন এবং বিষয়টি কেবল জমি সংক্রান্ত বিরোধ। এদিকে দলীয় নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগের বিষয়ে ভাওয়ালগড় ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক শরিফুল ইসলাম শরীফ জানান, তারা বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। জয়দেবপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) নয়ন কুমার কর নিশ্চিত করেছেন যে, বাদীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে এবং গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।