শিশুদের জ্বর ও ডায়রিয়া খুবই সাধারণ স্বাস্থ্যসমস্যা। বিশেষ করে ঋতু পরিবর্তনের সময় কিংবা ভাইরাসজনিত সংক্রমণের কারণে অনেক শিশুই এসব সমস্যায় আক্রান্ত হয়। তবে সঠিক সময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জটিলতা এড়ানো সম্ভব।
জ্বর হলে করণীয়
শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার বেশি হলে তাকে জ্বর বলা হয়। জ্বর দেখা দিলে প্রথমেই শিশুকে পর্যাপ্ত বিশ্রাম দিতে হবে।
• শিশুকে হালকা ও আরামদায়ক পোশাক পরান।
• বারবার বুকের দুধ, পানি বা তরল খাবার দিন।
• কুসুম গরম পানি দিয়ে শরীর মুছে দিতে পারেন।
• চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জ্বরের ওষুধ ব্যবহার করুন।
• শিশুর তাপমাত্রা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করুন।
ডায়রিয়া হলে করণীয়
ডায়রিয়া হলে শরীর থেকে দ্রুত পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হয়।
• শিশুকে ঘন ঘন খাবার স্যালাইন (ওআরএস) পান করান।
• বুকের দুধ খাওয়া শিশুর ক্ষেত্রে বুকের দুধ চালিয়ে যান।
• বয়স উপযোগী তরল ও পুষ্টিকর খাবার দিন।
• ডাবের পানি, ভাতের মাড় ও অন্যান্য নিরাপদ তরল খাবার দেওয়া যেতে পারে।
• শিশুর হাত ও ব্যবহৃত জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখুন।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে
• শিশুর বয়স ৩ মাসের কম এবং জ্বর হয়েছে।
• বারবার বমি করছে।
• খেতে বা পান করতে পারছে না।
• শ্বাসকষ্ট হচ্ছে।
• খিঁচুনি দেখা দিচ্ছে।
• প্রস্রাব কমে গেছে।
• চোখ বসে যাওয়া বা অতিরিক্ত দুর্বলতা।
• মলে রক্ত দেখা যাওয়া।
• ডায়রিয়া কয়েকদিন ধরে চলতে থাকা।
সচেতনতাই সবচেয়ে বড় প্রতিরোধ
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ পানি পান, সঠিকভাবে হাত ধোয়া, শিশুকে পুষ্টিকর খাবার খাওয়ানো এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করলে জ্বর ও ডায়রিয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। শিশুর অসুস্থতায় নিজে থেকে অ্যান্টিবায়োটিক বা অন্য কোনো ওষুধ ব্যবহার না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।