আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন: اِنَّ الدِّیْنَ عِنْدَ اللهِ الْاِسْلَامُ. আল্লাহ তাআলার নিকট একমাত্র মনোনীত ধর্ম ইসলাম। সূরা আলে ইমরান (৩) : ১৯
অন্য আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন: وَ مَنْ یَّبْتَغِ غَیْرَ الْاِسْلَامِ دِیْنًا فَلَنْ یُّقْبَلَ مِنْهُ وَ هُوَ فِی الْاٰخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ. আর যে ব্যক্তি ইসলাম ব্যতীত অন্য কোনো ধর্মকে দ্বীন হিসেবে গ্রহণ করবে, সেটা তার থেকে কিছুতেই কবুল করা হবে না এবং আখেরাতে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। Ñসূরা আলে ইমরান (৩) : ৮৫ ইসলাম গ্রহণ করা মানে ঈমানের কালিমা মুখে উচ্চারণ করা এবং ঈমানের বিষয়গুলো মনেপ্রাণে বিশ্বাস করা। মুমিন হওয়ার জন্য যেসব বিষয়ের ওপর ঈমান আনা জরুরি, সেগুলোর মধ্যে কয়েকটি বিষয় এই-
এক. আল্লাহর ওপর ঈমান আনার সাথে সাথে হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর ঈমান আনা। তাঁর সম্পর্কে এ বিশ্বাস রাখা যে, তিনি আল্লাহর বান্দা ও আল্লাহর রাসূল। তিনি সর্বশেষ নবী ও সর্বশেষ রাসূল এবং তিনি বিশ্বনবী ও শ্রেষ্ঠনবী। কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানবতার জন্য তিনিই একমাত্র নবী। তাঁর আনীত শরীয়তই একমাত্র শরীয়ত। তাঁর পর আর কোনো নতুন নবী আসবে না, নতুন শরীয়ত আসবে না। তিনি আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের সর্বাধিক নৈকট্যপ্রাপ্ত রাসূল, সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব। তিনি যেমন শেষনবী, তাঁর উম্মতও শেষ উম্মত। তাঁকে আল্লাহ তাআলা যে শরীয়ত দান করেছেন, তা সর্বশেষ শরীয়ত। এর মাধ্যমে আল্লাহ তাআলা পূর্বের সকল শরীয়ত রহিত করে দিয়েছেন। তাঁর আবির্ভাবের পর মুক্তির একমাত্র উপায় হল, তাঁর প্রতি ঈমান এনে তাঁকে শেষ নবী হিসেবে গ্রহণ করা এবং তাঁর শরীয়ত ও সুন্নতের অনুসরণ করা।
মুমিনের জন্য আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের আনুগত্য করা যেমন আবশ্যক, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আনুগত্য করাও তেমনি আবশ্যক। আল্লাহ তাআলা এটা অবধারিত করে দিয়েছেন। তাই আল্লাহ তাআলার অবাধ্য ব্যক্তি যেমনিভাবে দুনিয়া-আখেরাতে লাঞ্ছনা ও আযাব ভোগ করবে, মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবাধ্যতাকারীও দুনিয়া-আখেরাতে লাঞ্ছনা ও আযাব ভোগ করবে।
আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন- وَ مَنْ یَّعْصِ اللهَ وَ رَسُوْلَهٗ وَ یَتَعَدَّ حُدُوْدَهٗ یُدْخِلْهُ نَارًا خَالِدًا فِیْهَا وَ لَهٗ عَذَابٌ مُّهِیْنٌ. আর যে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করবে এবং তাঁর সীমাসমূহ লঙ্ঘন করবে, তিনি তাকে আগুনে ফেলবেন, যাতে সে চিরকাল থাকবে এবং তার জন্য রয়েছে অপমানকর শাস্তি। সূরা নিসা (৪) : ১৪
আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন- وَ مَا كَانَ لِمُؤْمِنٍ وَّ لَا مُؤْمِنَةٍ اِذَا قَضَی اللهُ وَ رَسُوْلُهٗۤ اَمْرًا اَنْ یَّكُوْنَ لَهُمُ الْخِیَرَةُ مِنْ اَمْرِهِمْ وَ مَنْ یَّعْصِ اللهَ وَ رَسُوْلَهٗ فَقَدْ ضَلَّ ضَلٰلًا مُّبِیْنًا. কোনো মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীর জন্য এ অবকাশ নেই যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল কোনো বিষয় চূড়ান্ত করে দেওয়ার পরও নিজেদের বিষয়ে তাদের ইখতিয়ার থাকবে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করল, সে সুস্পষ্ট গোমরাহীতে পতিত হল। সূরা আহযাব (৩৩) : ৩৬
দুই. হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে যে কুরআন ও সুন্নাহ নিয়ে এসেছেন, তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করা। এ বিশ্বাস রাখা যে, কুরআন ও সুন্নাহ্য় যা বর্ণিত হয়েছে, তা সুস্পষ্ট হক এবং মানবজাতির জন্য একমাত্র হেদায়েত।
কুরআন আল্লাহ তাআলার কালাম। আল্লাহ তাআলা যেমন মহান ও মহিমান্বিত, আল্লাহর কালাম কুরআনও তেমনি মহান ও মহিমান্বিত। অন্য কিছু এর সমতুল্য হতে পারে না। আল্লাহ তাআলা এ মহান কালাম তাঁর সর্র্বশেষ নবী ও রাসূল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর নাযিল করেছেন এবং তাঁর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণও তাঁকে শিখিয়ে দিয়েছেন। অতএব এর শব্দ-বাক্য যেমনিভাবে কিয়ামত পর্যন্ত সুসংরক্ষিত থাকবে, তেমনি তার অর্থ-মর্মও কিয়ামত পর্যন্ত অবিকৃত থাকবে।