বর্ষার আগেই ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি, মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ রাজধানীবাসী

আপলোড সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৯:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৬-০৬-২০২৬ ০৯:০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন

বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগেই রাজধানীতে ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়তে শুরু করেছে। মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, একই সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও। এ পরিস্থিতির জন্য নাগরিকদের অসচেতনতাকে দায়ী করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। অন্যদিকে আক্রান্তদের বাসাবাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)।

রাজধানীর কাঁটাবন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশে জমে থাকা পানি মশার প্রজননস্থলে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পর দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সেখানে সহজেই জন্ম নিচ্ছে এডিস মশা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব স্থানে নিয়মিত নজরদারি বা কার্যকর মশক নিধন কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।

এলাকাবাসী জানান, মশার কারণে দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। মশার কামড়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনাও বাড়ছে। তবে সিটি করপোরেশনের ফগিং বা কীটনাশক ছিটানোর কার্যক্রম আগের তুলনায় অনেক কম দেখা যাচ্ছে।

গত কয়েক বছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি থাকে। চলতি বছরের পরিস্থিতিও একই ধরনের আশঙ্কার ইঙ্গিত দিচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এখন সাততলা, আটতলা এমনকি নয়তলা ভবনেও মশার উপদ্রব দেখা যাচ্ছে। আগে নিয়মিত ফগিং কার্যক্রম থাকলেও বর্তমানে তা পর্যাপ্ত নয়।

চিকিৎসকরা বলছেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হওয়ার পর দ্রুত তাকে মশারির ভেতরে রাখা জরুরি। এতে আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়াতে পারে না এবং সংক্রমণের চক্র ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়।

ডিএনসিসির ডেঙ্গু ডেডিকেটেড হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. রিফাত আল ইমন বলেন, আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই মশারির মধ্যে রাখতে হবে। কারণ আক্রান্ত ব্যক্তিকে মশা কামড়ালে সেই মশার মাধ্যমে পরিবারের অন্য সদস্যরাও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হতে পারেন।

অন্যদিকে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদার করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. নিশাত পারভীন বলেন, বাইরে নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করা হলেও অনেক সময় ঘরের ভেতরে থাকা ফুলদানি, টব বা পানিভর্তি পাত্রে এডিস মশার লার্ভা জন্ম নেয়। তাই নাগরিকদের সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বাসাবাড়ি থেকে তথ্য সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংস করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এতে অন্তত ৫০ শতাংশ লার্ভার উৎপাদনস্থল কমিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা থাকলেও এটি প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মশার প্রজনন বন্ধ করা। পাড়া-মহল্লা ও বাসাবাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত না করলে ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]