যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছে লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। একই সময়ে দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইসরাইল জানিয়েছে, তারা ওই অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না, ফলে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে, যখন যুক্তরাষ্ট্র জানায়—ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ যদি সংঘাত বন্ধ করে এবং সীমান্তবর্তী দক্ষিণ লেবানন থেকে তাদের যোদ্ধাদের সরিয়ে নেয়, তবে লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হতে পারে। তবে এই প্রস্তাব আলোচনায় সরাসরি অংশ না থাকা হিজবুল্লাহ নেতৃত্বের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
হিজবুল্লাহর প্রধান নাঈম কাসেম এক বিবৃতিতে প্রস্তাবটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি লেবাননের জনগণের একটি অংশকে ধ্বংস এবং অন্যদের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা। তিনি আরও বলেন, যতদিন দখলদারিত্ব চলবে, ততদিন প্রতিরোধও অব্যাহত থাকবে।
চলতি বছরের ২ মার্চ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে হিজবুল্লাহ পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে সংঘাত নতুন মাত্রা পায়। এরপর এপ্রিল মাস থেকে যুক্তরাষ্ট্র একাধিকবার যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দিলেও বাস্তবে সংঘর্ষ বন্ধ হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মধ্যপ্রাচ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টার জন্য একটি বড় প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেহরানও জানিয়েছে, যেকোনো সমঝোতার ক্ষেত্রে লেবাননে ইসরাইলি হামলা বন্ধ করা অপরিহার্য।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির আলোচনায় দক্ষিণ লেবাননের পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। ওই অঞ্চলে ইসরাইল একটি নিরাপত্তা অঞ্চল দখল করে রেখেছে, যা তাদের উত্তরাঞ্চলকে হামলা থেকে সুরক্ষার উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা হয়েছে।
নাঈম কাসেম সতর্ক করে বলেন, লেবাননের গ্রামগুলো যতদিন অনিরাপদ থাকবে এবং হামলার শিকার হবে, ততদিন ইসরাইলের উত্তরাঞ্চলও নিরাপদ থাকবে না।
এর আগে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতির কাঠামো একটি স্থায়ী সমাধানের শেষ সুযোগ হতে পারে এবং সব পক্ষ সম্মত হলে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব।
অন্যদিকে, ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাৎজ জানিয়েছেন, তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং গোলাবর্ষণ ও স্থল অভিযান চালিয়ে যাওয়া হবে।