স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন অন্তত ২ থেকে ৩ লিটার পানি পান করা প্রয়োজন। তবে তীব্র গরমে ঘাম বেশি হলে পানির চাহিদাও বেড়ে যায়। যারা বাইরে কাজ করেন বা দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান করেন, তাদের আরও বেশি পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
শুধু পানি নয়, বিভিন্ন প্রাকৃতিক পানীয়ও শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ফলের রস এবং ওরস্যালাইন শরীরের প্রয়োজনীয় খনিজ ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত চিনি যুক্ত কোমল পানীয় বা কৃত্রিম পানীয় গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, কারণ এগুলো অনেক ক্ষেত্রে শরীরের জন্য উপকারের চেয়ে ক্ষতিই বেশি করতে পারে।
গরমের সময় খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনার পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে।তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, কমলা, আনারস ও অন্যান্য রসালো ফল বেশি খাওয়া উচিত। এসব ফলে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত ও ভারী খাবার পরিহার করে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করা উচিত।
এদিকে চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, দীর্ঘ সময় সরাসরি রোদে অবস্থান করলে হিটস্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। তাই প্রয়োজন ছাড়া দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে বাইরে বের না হওয়াই উত্তম। বাইরে বের হলে ছাতা, টুপি বা হালকা রঙের ঢিলেঢালা পোশাক ব্যবহার করা উচিত। পাশাপাশি সঙ্গে পানির বোতল রাখা এবং নিয়মিত পানি পান করা জরুরি।
অনেকেই ব্যস্ততার কারণে পানি পান করতে ভুলে যান। এজন্য মোবাইলে রিমাইন্ডার ব্যবহার করা বা নির্দিষ্ট সময় পরপর পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের বাড়তি নজরদারি প্রয়োজন, কারণ তারা অনেক সময় পানির প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলেও তা প্রকাশ করতে পারেন না।
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দেশে তাপপ্রবাহের প্রকোপ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ করা সম্ভব। তীব্র গরমে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা শুধু স্বস্তির জন্য নয়, সুস্থ ও নিরাপদ থাকার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।