নরসিংদীর চরাঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার শিকার হয়েছেন ৬ পুলিশ সদস্য। তাদের এলোপাতাড়ি মারধরের পর কান ধরে ওঠবস করিয়ে মাফ চাওয়ানো হয়। শুক্রবার দুপুরে নরসিংদী সদর উপজেলার আলোকবালী ইউনিয়নের বাখননগর বীরগাও সাতপাড়া এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে র্যাব ও ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, নরসিংদী সদর মডেল থানার তিন এসআই, দুই এএসআই ও একজন কনস্টেবল স্পিডবোটে করে একটি মামলার তদন্ত ও আসামি গ্রেফতারের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় যান। সেখানে আলোকবালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাবিব রহমান হাবি, দপ্তর সম্পাদক হুমায়ন মোল্লাসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের একাধিক নেতা পুলিশের কাজে বাধা দেন এবং অনুমতি ছাড়া গ্রামে প্রবেশের কারণ জানতে চান। এই বিতর্ক একপর্যায়ে সংঘাতে রূপ নেয় এবং শতাধিক লোক একজোট হয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। ফেরার পথে স্পিডবোটে উঠে পুলিশ সদস্যরা ভিডিও ধারণের চেষ্টা করলে পুনরায় তাদের লাঞ্ছিত করা হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হাবি ও মাইনুদ্দিনের দলের লোকেরা পুলিশ সদস্যদের ধাওয়া করে কিল-ঘুষি মারে এবং পরে ছয়জনকেই কান ধরে ওঠবস করিয়ে মাফ চাওয়ানো হয়।
আহত পাঁচ পুলিশ সদস্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে হাসপাতালের আরএমও গুলসান আরা কবির নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় এএসআই নাজমুল হোসেন বাদী হয়ে হাবিব রহমান হাবিকে প্রধান আসামি করে ৫২ জনের নামে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ থেকে ১২০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। সন্ধ্যায় পরিচালিত অভিযানে তাহসি বেগম, খোরশেদ মিয়া, রহিম মিয়া ও সোহাগীকে গ্রেফতার করা হয়।
তবে ঘটনার গুরুতর অংশ নিয়ে পুলিশ কর্তৃপক্ষের অবস্থান বিতর্কিত। থানার অফিসার ইনচার্জ এআরএম আল মামুন কেবল কাজে বাধা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন, মারধর ও কান ধরে ওঠবসের বিষয়টি তার কানে আসেনি বলে জানিয়েছেন। জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুকও হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে কেবল সরকারি কাজে বাধার কথা বলেছেন।