সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কদিন ধরেই আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে একটি সংলাপ— “রাগ করলা? কথা ঠিক না বেঠিক?”। ফেসবুক নিউজফিড থেকে শুরু করে ইউটিউব শর্টস— প্রায় সব জায়গাতেই এই বাক্যটি নিয়ে তৈরি হচ্ছে নানা ভিডিও, মিম ও কনটেন্ট।
তবে এই ভাইরাল প্রবণতা ঘিরে সমাজের রুচিবোধ, সময় সচেতনতা ও মানসিক গঠন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। বিশেষ করে সচেতন মহলের মতে, অর্থহীন ও সাময়িক বিনোদননির্ভর এসব ট্রেন্ড সমাজকে ধীরে ধীরে দায়িত্বজ্ঞানহীনতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
একজন লেখক ও ইসলামি শিক্ষার্থী তার মতামতে বলেন, একজন মুমিনের জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত মূল্যবান। তাই যেকোনো ভাইরাল ট্রেন্ড বা অর্থহীন আলোচনায় অতিরিক্ত সময় ব্যয় করা আত্মিক ও মানসিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইসলাম মানুষকে উন্নত রুচি, ব্যক্তিত্ব ও সময়ের মূল্যবোধ শেখায়। পবিত্র কোরআনে সফল মুমিনদের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে গিয়ে মহান আল্লাহ বলেছেন—
“যারা অনর্থক বিষয় থেকে বিরত থাকে।” — কুরআন, সুরা আল-মুমিনুন, আয়াত: ৩
এছাড়া মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর একটি হাদিস উদ্ধৃত করে তিনি বলেন—
“মানুষের ইসলামের অন্যতম সৌন্দর্য হলো, তার জন্য অনর্থক বিষয় বর্জন করা।”— জামে তিরমিজি: ২৩১৭
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলাম বৈধ বিনোদনের বিরোধিতা করে না। তবে এমন বিনোদন গ্রহণযোগ্য নয়, যা মানুষকে দায়িত্বহীন, উদাসীন বা সময় অপচয়ে অভ্যস্ত করে তোলে।
তিনি আরও বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল সংস্কৃতিতে গা ভাসানোর পরিবর্তে একজন সচেতন মুসলিমের উচিত শরিয়ত, বিবেক ও ইতিবাচক চিন্তার ভিত্তিতে নিজেকে পরিচালিত করা।
লেখাটির শেষে তরুণ সমাজকে সময়ের সঠিক ব্যবহার, অর্থবহ কনটেন্ট গ্রহণ এবং আত্মিক উন্নয়নের দিকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।