ট্রাম্পের ‘শান্তি চুক্তি’ দাবি ঘিরে উত্তেজনা, হরমুজ খুলে দেওয়ার ইঙ্গিতেও উদ্বেগে ইসরায়েল

আপলোড সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ১২:১৬:৫১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৪-০৫-২০২৬ ১২:১৬:৫১ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা ও সংঘাত নিরসনে একটি সমঝোতা চুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শনিবার (২৪ মে) দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি জানান, খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। একইসঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য খুলে দেওয়া হতে পারে।

ট্রাম্প বলেন, এ বিষয়ে তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন এবং বৈঠকটি “ইতিবাচক” ছিল। তবে ইসরায়েলি বিভিন্ন সূত্রের দাবি, সম্ভাব্য এই চুক্তি দেশটির নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানের জন্য বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বেড়ে যায়। তবে পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনায় ইসরায়েলকে অনেকটাই বাইরে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন নেতানিয়াহু।

এদিকে ইউরোপীয় মিত্রদের অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের পরামর্শ করেননি ট্রাম্প। এতে পশ্চিমা জোটের মধ্যেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বাড়ছে চাপ। ডেমোক্র্যাট নেতারা, বিশেষ করে সিনেটর চাক শুমার, প্রেসিডেন্টের যুদ্ধ পরিচালনার ক্ষমতা সীমিত করার দাবি তুলেছেন। এমনকি রিপাবলিকান শিবিরের মধ্যেও ট্রাম্পের অবস্থান নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

যুদ্ধের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সামরিক অবকাঠামো, ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার ও নৌ সক্ষমতায় বড় ধরনের আঘাত হানে। তবে পরে ইরান পাল্টা কৌশল হিসেবে হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ নেয়। বিশ্বের উল্লেখযোগ্য অংশের জ্বালানি তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়।

সূত্রগুলোর দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নিয়ে আলোচনা প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এতে যুদ্ধবিরতি, আঞ্চলিক সংঘাত কমানো এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এছাড়া ইরানের জব্দকৃত প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ মুক্ত করার বিষয়ও আলোচনায় রয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তেহরান জানিয়েছে, এ বিষয়টি পরবর্তী ধাপের আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ওয়াশিংটন চাচ্ছে, ইরান যেন মধ্যপ্রাচ্যে বিভিন্ন প্রক্সি গোষ্ঠীকে সমর্থন দেওয়া বন্ধ করে।

ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে অগ্রগতি হলেও এখনো বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রেজা তালাই-নিক দাবি করেছেন, ইরানের শর্ত না মানলে যুক্তরাষ্ট্র আরও বড় কূটনৈতিক ব্যর্থতার মুখে পড়বে।

অন্যদিকে ইসরায়েলি গণমাধ্যমের দাবি, নতুন চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ইরানের কৌশলগত অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে। বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা নিয়ে সুস্পষ্ট সমাধান না থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে তেলআবিবে।

এরই মধ্যে পাকিস্তানও মধ্যস্থতার ভূমিকায় সক্রিয় হয়েছে। ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তেহরানের সঙ্গে তাদের সাম্প্রতিক আলোচনা “খুবই ফলপ্রসূ” হয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি, হরমুজ সংকট সমাধান এবং পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে নতুন সংলাপ শুরু করার রূপরেখা উঠে এসেছে।

যদিও এখনো হোয়াইট হাউস বা সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ করেনি, তবুও সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা তীব্র হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সমঝোতা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে পারমাণবিক ইস্যু, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ইসরায়েলের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি।

 

 
 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]