গরমে শিশুদের যত্নে সচেতন হওয়া উচিত

আপলোড সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ১২:২৬:৩৫ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২৩-০৫-২০২৬ ১২:৩০:৪৮ অপরাহ্ন

দেশজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বেড়েছে। প্রচণ্ড গরম, অতিরিক্ত ঘাম ও পানিশূন্যতার কারণে শিশুরা খুব দ্রুত অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে নবজাতক ও কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে গরমের প্রভাব তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তাই এ সময় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সচেতনতা জরুরি বলে মনে করছেন চিকিৎসকরা।

শিশুদের শরীর বড়দের তুলনায় দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। গরমে অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীর থেকে প্রয়োজনীয় পানি ও লবণ বের হয়ে যায়। ফলে শিশু দুর্বল হয়ে যেতে পারে, মাথা ঘোরা, জ্বর, বমি কিংবা খাওয়ার অনীহা দেখা দিতে পারে। এজন্য শিশুদের বারবার বিশুদ্ধ পানি পান করানো প্রয়োজন।

গরমে শিশুদের খাবারের প্রতিও বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। পুষ্টিকর ও সহজপাচ্য খাবার শিশুদের শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তাজা ফলমূল, শাকসবজি, ঘরে তৈরি খাবার এবং পর্যাপ্ত তরল খাদ্য শিশুর খাদ্যতালিকায় রাখা প্রয়োজন। বাইরে খোলা খাবার বা দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ গরমে খাবার দ্রুত নষ্ট হয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

গরমের সময় শিশুদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে। শিশুদের হালকা রঙের, সুতি ও ঢিলেঢালা পোশাক পরানো উচিত। এতে শরীরে বাতাস চলাচল সহজ হয় এবং অতিরিক্ত ঘাম কম হয়। আঁটসাঁট বা মোটা কাপড়ের পোশাক শিশুর অস্বস্তি বাড়াতে পারে। বাইরে বের হলে শিশুর মাথা ও শরীর রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখার ব্যবস্থাও করতে হবে।

অতিরিক্ত গরমে শিশুদের ত্বকে ঘামাচি, র‍্যাশ, চুলকানি কিংবা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শিশুদের নিয়মিত গোসল করানো এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। ঘেমে গেলে দ্রুত শরীর মুছে শুকনো কাপড় পরিয়ে দিতে হবে। শিশুর বিছানা, পোশাক ও ব্যবহার্য জিনিসপত্র পরিষ্কার রাখার দিকেও নজর দিতে হবে।

দুপুরের প্রচণ্ড রোদে শিশুদের বাইরে না নেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে সকাল ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাপমাত্রা বেশি থাকে। এ সময় প্রয়োজন ছাড়া শিশুদের বাইরে বের না করাই ভালো। বাইরে যেতে হলে ছাতা কিংবা হালকা কাপড় দিয়ে শিশুকে রোদ থেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে।

গরমের সময় শিশুদের আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে তা গুরুত্বসহকারে নিতে হবে। শিশু অতিরিক্ত কান্না করা, দুর্বল হয়ে পড়া, খেতে না চাওয়া, জ্বর, ডায়রিয়া কিংবা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যায় ভুগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। অনেক সময় পানিশূন্যতা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে।

এছাড়া শিশুদের ঘুমের পরিবেশও আরামদায়ক রাখতে হবে। ঘর যেন বাতাস চলাচলের উপযোগী হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। অতিরিক্ত গরম ঘরে শিশুদের রাখা ঠিক নয়। প্রয়োজনে ফ্যান বা ঠান্ডা পরিবেশের ব্যবস্থা করতে হবে, তবে সরাসরি অতিরিক্ত ঠান্ডা বাতাস শিশুর গায়ে লাগানো থেকেও সতর্ক থাকতে হবে।

সামান্য সচেতনতা ও নিয়ম মেনে চললেই গরমে শিশুদের অনেক ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করা সম্ভব। তাই পরিবারের সবাইকে শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]