তেল রপ্তানি আয় তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সত্ত্বেও পশ্চিমা পরামর্শক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নতুন চুক্তি দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছে সৌদি আরব। একই সঙ্গে কিছু চলমান প্রকল্পের অর্থপ্রদানও পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে উঠে আসা এই তথ্য বৈশ্বিক পরামর্শক সেবা খাতে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির পরই নতুন পরামর্শক চুক্তি স্থগিত করা হয়। একজন শীর্ষ নির্বাহী জানিয়েছেন, কিছু চালানের অর্থপ্রদান চলতি বছরের জুন পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে সৌদি সরকার দাবি করেছে, তারা কোনো বিল পরিশোধ বন্ধ করেনি।
আর্থিক চিত্র পরস্পরবিরোধী। চলতি বছরের মার্চে সৌদি তেল রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪.৭ বিলিয়ন ডলারে, যা ২০২২ সালের অক্টোবরের পর সর্বোচ্চ। ইরান সংঘাতের কারণে তেলের দাম বাড়ায় এই আয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তবে একই সময়ে সরকারি বাজেট ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৩.৫ বিলিয়ন ডলারে, সামগ্রিক সরকারি ব্যয় বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ এবং ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরিপ্রেক্ষিতে সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে ২৬ শতাংশ।
হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে সমুদ্রপথে রপ্তানি বাধাগ্রস্ত হলেও সৌদি আরব বিকল্প ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর দিয়ে রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। বর্তমানে দেশটি যুদ্ধপূর্ব রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হচ্ছে।
ভিশন ২০৩০-এর আওতায় ২০১৬ সাল থেকে ম্যাককিনসি, বোস্টন কন্সালটিং গ্রুপের মতো পশ্চিমা প্রতিষ্ঠানগুলো সৌদি আরবের মেগা প্রকল্পে ব্যাপক কাজ পেয়ে আসছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নয়েমসহ একাধিক উচ্চব্যয়ের প্রকল্প সংকুচিত বা বাতিল করা হচ্ছে, এমনকি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও বিবেচনায় রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তেল আয় বাড়লেও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আগ্রহ কমে যাওয়া এবং প্রকল্পগুলোর বিশাল ব্যয় সৌদি আরবকে অগ্রাধিকার পুনর্মূল্যায়নে বাধ্য করছে। এখন খনি, প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক প্রকল্পে মনোযোগ বাড়ানো হচ্ছে, পশ্চিমা পরামর্শকদের ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমিয়ে আনা হচ্ছে।