ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সামরিক অভিযানে নিজেদের অস্ত্রভান্ডার সংরক্ষণকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে তাইওয়ানের সঙ্গে ১৪ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রি চুক্তি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হং কাও বৃহস্পতিবার সিনেটের এক শুনানিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। ট্রাম্প-শি জিনপিং বেইজিং বৈঠকের মাত্র এক সপ্তাহের মাথায় এ সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক মহলে নতুন উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে।
হং কাও জানান, 'অপারেশন এপিক ফিউরি'র জন্য প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়েছে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন উপযুক্ত সময়ে এই বিদেশি সামরিক বিক্রয় প্রক্রিয়া আবার চালু করবে। তাইওয়ানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই অস্ত্র চুক্তির ভবিষ্যৎ এখন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
প্রসঙ্গত, গত জানুয়ারিতে মার্কিন কংগ্রেস এই অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করলেও কার্যকর করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের চূড়ান্ত স্বাক্ষর প্রয়োজন ছিল। গত ৮ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি হলেও স্থায়ী শান্তি চুক্তি এখনো সম্পন্ন হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তাইওয়ানের এই অস্ত্র প্যাকেজকে তিনি বেইজিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় 'দরকষাকষির ঘুঁটি' হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন — যা গত কয়েক দশকের মার্কিন কূটনৈতিক নীতির সঙ্গে স্পষ্টত সাংঘর্ষিক।
স্থগিতাদেশের পরও তাইওয়ানের প্রধানমন্ত্রী চো জুং-তাই শুক্রবার জানিয়েছেন, অস্ত্র ক্রয়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ভিন্নমত পোষণ করছেন। ক্রাইসিস গ্রুপের উত্তর-পূর্ব এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক উইলিয়াম ইয়াং বলেন, এই পশ্চাদপসরণ তাইওয়ানে মার্কিন সমর্থন নিয়ে গভীর সংশয় তৈরি করবে এবং তাইওয়ান সরকারের জন্য ভবিষ্যতে প্রতিরক্ষা বাজেট বাড়ানোও কঠিন হয়ে পড়বে।
উল্লেখ্য, চীন সবসময়ই স্বশাসিত তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে এবং তাইপেইর প্রতি যেকোনো মার্কিন সামরিক সহায়তার বিরোধিতা করে আসছে। যদিও ১৯৭৯ সালের 'তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট' অনুযায়ী তাইওয়ানকে আত্মরক্ষায় সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র আইনিভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই আইনি বাধ্যবাধকতা ও ট্রাম্পের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থানের মধ্যকার দ্বন্দ্ব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এরই মধ্যে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। এটি বাস্তবে ঘটলে গত চার দশকের কূটনৈতিক রীতি ভেঙে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তাইওয়ানের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানের এটি হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক সরাসরি যোগাযোগ, যা বেইজিংকে ক্ষুব্ধ করে এ অঞ্চলে নতুন সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।