ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ওবিসি (অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণী) সংরক্ষণ নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ওবিসি সংরক্ষণের হার ১৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৭ শতাংশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিদ্যমান ওবিসি সুবিধাও আপাতত বাতিল করা হয়েছে। এ সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য পূর্বের সংরক্ষণ সুবিধা আর কার্যকর থাকছে না।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী–এর নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভা সম্প্রতি এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে। সরকার বলছে, ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ ভারতের সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুসরণ করেই নতুন নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গে ২০১২ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়–এর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস সরকার ‘পশ্চিমবঙ্গ অনগ্রসর শ্রেণী আইন’ প্রণয়ন করে। ওই আইনের আওতায় মোট ৭৭টি সম্প্রদায়কে ১৭ শতাংশ ওবিসি সংরক্ষণ সুবিধা দেওয়া হয়। এর মধ্যে ওবিসি-এ শ্রেণীতে অধিক অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য ১০ শতাংশ এবং ওবিসি-বি শ্রেণীতে অন্যান্য অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য ৭ শতাংশ সংরক্ষণ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে এ সংক্রান্ত একাধিক সরকারি আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আদালতে মামলা হলে ২০২৪ সালে কলকাতা হাইকোর্ট কয়েকটি আদেশ বাতিল করে দেয়। আদালতের ওই রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান সরকার পুরোনো কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের দাবি, আগের প্রশাসন রাজনৈতিক কারণে মুসলিম সম্প্রদায়ের বড় অংশকে ওবিসি তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল, যার ফলে প্রকৃত অনগ্রসর শ্রেণীর মানুষ বঞ্চিত হচ্ছিলেন। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এখন ৭ শতাংশ ওবিসি সুবিধা মূলত কয়েকটি অনগ্রসর হিন্দু জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
তবে এ সিদ্ধান্ত ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী দল ও বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, সংরক্ষণ নীতিতে এই পরিবর্তন রাজ্যের সামাজিক ভারসাম্য ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর শিক্ষা-চাকরির সুযোগে প্রভাব ফেলতে পারে।