ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের অবস্থানের বিরুদ্ধে গিয়ে চারজন রিপাবলিকান সিনেটর ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন, যার ফলে সিনেটে একটি গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধ-ক্ষমতা সীমিত করার প্রস্তাব পাস হয়েছে। এই প্রস্তাবের লক্ষ্য কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরান যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা সীমিত করা।
মঙ্গলবার (১৯ মে) সিনেটে অনুষ্ঠিত ভোটে প্রস্তাবটি ৫০-৪৭ ব্যবধানে গৃহীত হয়। এতে রিপাবলিকান দলের চার সদস্য—র্যান্ড পল, সুসান কলিন্স, লিসা মুরকোস্কি এবং বিল ক্যাসিডি—দলীয় অবস্থানের বাইরে গিয়ে সমর্থন দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবটির বিপক্ষে ভোট দেন। তিনজন রিপাবলিকান ভোটদানে অংশ নেননি।
এই ভোটকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য একটি বিরল রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই সংঘাতে তিনি নিজের দল ও সমর্থকদের সমর্থন পেয়ে আসছিলেন। তবে এবার কংগ্রেসের ভেতর থেকেই তার ক্ষমতার সীমা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রস্তাবটি মূলত ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’-এর আওতায় আনা হয়েছে, যা অনুযায়ী কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ৬০ দিনের বেশি সময় সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে পারেন না। ডেমোক্র্যাটদের দাবি, সেই সময়সীমা ইতোমধ্যে অতিক্রান্ত হয়েছে। তবে হোয়াইট হাউস বলছে, যুদ্ধবিরতির ঘোষণার সময় থেকে এই গণনা স্থগিত ছিল, ফলে প্রেসিডেন্টের হাতে এখনও কিছু সময় রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতটি গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হয় এবং ইতোমধ্যে এটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কারণ হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং জ্বালানি অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালীতেও প্রভাব পড়েছে।
যদিও সিনেটের এই ভোটের ফলে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার বাধ্যতামূলক নয়, তবে এটি প্রেসিডেন্টের সামরিক সিদ্ধান্তের ওপর কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে প্রস্তাবটি কার্যকর করতে হলে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ উভয় কক্ষেই দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন প্রয়োজন হবে, যা অর্জন করা কঠিন হতে পারে। এদিকে চলমান সংঘাত নিরসনে কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।