প্রতিরক্ষা চুক্তির অধীনে সৌদিতে ৮০০০ সৈন্য ও যুদ্ধবিমান পাঠাল পাকিস্তান, আলোচনায় পরমাণু ঢাল

আপলোড সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০১:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ২০-০৫-২০২৬ ০১:৪৪:৪২ পূর্বাহ্ন
সৌদি আরবের সঙ্গে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটিতে ৮০০০ সৈন্য, একটি চীনা বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে পাকিস্তান।

রয়টার্স সোমবার জানায়, পাকিস্তান প্রায় ১৬টি বিমানের একটি স্কোয়াড্রন মোতায়েন করেছে, যার বেশিরভাগই চীনের সঙ্গে যৌথভাবে উৎপাদিত জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান। এছাড়াও, দেশটি একটি চীনা এইচকিউ-৯ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও মোতায়েন করেছে।

সৌদি আরবে অত্যাধুনিক চীনা অস্ত্রের উপস্থিতি দেশটিতে পরিচালিত উচ্চ প্রযুক্তির মার্কিন ব্যবস্থার সাথে মিলে যায়। সৌদি আরবের কাছে প্যাট্রিয়ট এবং থাড আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। প্রকৃতপক্ষে, উপসাগরীয় অঞ্চলে প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের বৃহত্তম মজুত এই দেশটির কাছেই রয়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধ পাকিস্তানের সঙ্গে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা চুক্তিটিকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে, যা ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে স্বাক্ষর হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলি আক্রমণের জবাবে ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে হাজার হাজার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যুদ্ধের প্রথম কয়েক সপ্তাহে কয়েকজন সৌদি ভাষ্যকার পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি উত্থাপন করে বলেন, এই চুক্তির ফলে তারা পাকিস্তানের পারমাণবিক ছাতার নিচে চলে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা মিডল ইস্ট আই-কে জানিয়েছেন, এই কথার কিছু অংশ নিয়ে ইসলামাবাদ সন্দিহান হয়ে পড়েছিল এবং বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে আলোচনা করেছিল।

সামরিক সরঞ্জাম মোতায়েন থেকে বোঝা যায়, ইসলামাবাদ সৌদি আরবের নিরাপত্তা উদ্বেগ নিরসনের চেষ্টা করছে। রয়টার্স জানিয়েছে, এই চুক্তিতে সৌদি আরবের সীমান্ত সুরক্ষিত করার জন্য সেখানে ৮০,০০০ পাকিস্তানি সৈন্য মোতায়েনের সম্ভাবনার দ্বার খোলা রাখা হয়েছে।

এই চুক্তিতে পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত আছে, যদিও সেগুলো সৌদি আরবে পৌঁছেছে কি না তা রয়টার্স যাচাই করতে পারেনি। প্রতিদ্বন্দ্বী ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ রয়েছে। সৌদি আরবের লোহিত সাগর উপকূলে যাওয়ার পথ হলো সংকীর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালি, যেখানে হুথিরা অতীতে জাহাজে হামলা চালিয়েছে।

সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক নিরাপত্তা সম্পর্ক আছে, যা ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধের ফলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে। এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করেছিল ইসলামাবাদ।

সৌদি আরব ও পাকিস্তান তাদের নিরাপত্তা চুক্তিতে তুরস্ককে অন্তর্ভুক্ত করে তা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা করেছে। এদিকে, সৌদি আরব সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রভাব বলয় থেকে কিছু আঞ্চলিক শক্তিকে বের করে আনার চেষ্টায় পাকিস্তানি অস্ত্রের ওপর নির্ভর করেছে।

এমইই এপ্রিলে জানিয়েছিল যে, রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে একটি চুক্তির অংশ হিসেবে পাকিস্তান সামরিক শাসক খলিফা হাফতারের নেতৃত্বাধীন লিবিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় সরকারের কাছে পাঁচটি কার্গো বিমানে করে অস্ত্র সরবরাহ করেছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]