সৌদি আরবে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে পাকিস্তান এবং রিয়াদের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। ইসলামাবাদ বলেছে, এ ধরনের হামলা শুধু সৌদি আরবের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন নয়, বরং পুরো অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।
সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রোববার ইরাকের দিক থেকে আসা তিনটি ড্রোন তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে। এ ঘটনার পরদিন পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, এসব হামলা আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান সংকটময় সময়ে পাকিস্তান সরকার ও জনগণ সৌদি আরবের পাশে রয়েছে এবং দেশটির নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে এ ধরনের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রীয় অখণ্ডতার পরিপন্থী বলে উল্লেখ করা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ইরানকে ঘিরে সংঘাতের পর বিভিন্ন উপসাগরীয় দেশে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা বেড়েছে, যা আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এর আগে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রেও ড্রোন হামলার চেষ্টা হয়, যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। পাকিস্তান ওই ঘটনাকেও নিন্দা জানিয়ে বলেছে, পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা আন্তর্জাতিক আইন, জাতিসংঘ সনদ এবং আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরাপত্তা নীতিমালার গুরুতর লঙ্ঘন।
আমিরাতের কর্তৃপক্ষ জানায়, ড্রোন হামলায় একটি বিদ্যুৎ জেনারেটরে আগুন লাগলেও কোনো প্রাণহানি বা তেজস্ক্রিয়তার ঝুঁকি তৈরি হয়নি। তবুও এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা ঝুঁকি আরও বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।