পরিবেশবান্ধব গাড়িতে শুল্ক ছাড়ের দাবি: বাজার সম্প্রসারণে ব্যবসায়ী ও অর্থনীতিবিদদের সুপারিশ

আপলোড সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১০:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ১৯-০৫-২০২৬ ১০:৫৫:০২ পূর্বাহ্ন

বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব গাড়ির বাজার সম্প্রসারণে আসন্ন বাজেটে শুল্ক সুবিধা দেওয়ার দাবি জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, রি-কন্ডিশনড হাইব্রিড, প্লাগইন হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানিতে কর কমানো হলে গাড়ির দাম কমে সাধারণ ক্রেতার নাগালে আসবে এবং একই সঙ্গে বিক্রি বাড়ার ফলে সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে। এ প্রস্তাবকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরাও।
 

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সাশ্রয় ও পরিবেশ সুরক্ষার লক্ষ্যে বৈদ্যুতিক ও হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশও নিজস্ব বাজার গড়ে তুলতে আগ্রহী। খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা মনে করছেন, বাজেটে সহায়ক নীতি গ্রহণ করা হলে দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ইকোসিস্টেম তৈরি সহজ হবে।
 

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের মোট যানবাহনের ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, ২০২২ সাল থেকে বর্তমান অর্থবছর পর্যন্ত নিবন্ধিত বৈদ্যুতিক গাড়ির সংখ্যা ৮০০-এরও কম, যা মোট যানবাহনের খুবই ক্ষুদ্র অংশ। এ বাস্তবতায় খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নীতিগত সহায়তা ছাড়া এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হবে।
 

স্থানীয়ভাবে বৈদ্যুতিক গাড়ি উৎপাদন বা অ্যাসেম্বলিংয়ের সুযোগ তৈরি করতেও শুল্ক সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, আমদানি ব্যয় কমলে বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি দেশে শিল্পভিত্তিক উৎপাদনও গড়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে ধাপে ধাপে হাইব্রিড ও প্লাগইন হাইব্রিড গাড়ির ব্যবহার বাড়লে ভবিষ্যতে চার্জিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও বিস্তৃত হবে।
 

রি-কন্ডিশনড গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বারভিডা বলছে, ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে গাড়ির দাম বেড়ে যাওয়ায় বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। এ পরিস্থিতিতে শুল্ক কমানো হলে ক্রেতাদের ওপর চাপ কমবে এবং বিক্রি বাড়ার ফলে সরকার শুল্ক, নিবন্ধন ফি ও রোড ট্যাক্স থেকে বেশি রাজস্ব পাবে।

অন্যদিকে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, বাংলাদেশের বর্তমান উচ্চ শুল্ক কাঠামো পুনর্বিবেচনা করে আরও বাস্তবসম্মত পর্যায়ে আনা প্রয়োজন। এতে একদিকে যেমন পরিবেশবান্ধব যানবাহনের ব্যবহার বাড়বে, অন্যদিকে পরিবহন খাতের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

তথ্য অনুযায়ী, দেশে গাড়ি নিবন্ধনের সংখ্যাও সাম্প্রতিক সময়ে কমেছে। ২০২২ সালে যেখানে ১৬ হাজার ৭০০টি গাড়ি নিবন্ধিত হয়েছিল, সেখানে মূল্যবৃদ্ধির কারণে গত বছর তা নেমে এসেছে ৯ হাজার ৪০০-এ। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুল্ক সুবিধা ও নীতিগত সহায়তা দিলে এই খাত আবারও গতি ফিরে পেতে পারে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]