যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আবারও আলোচনায় এসেছে বহুল আলোচিত ভূরাজনৈতিক তত্ত্ব ‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’। সম্প্রতি বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই পরিভাষা ব্যবহার করেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিশ্বের দুই পরাশক্তি যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের এই ‘ফাঁদে’ পড়া উচিত নয়।
মূলত, দুই শক্তিধর দেশের মধ্যকার প্রতিযোগিতা যেন যুদ্ধের দিকে না গড়ায়, সে বিষয়ে সতর্ক করতেই এই তত্ত্বের প্রসঙ্গ টানেন শি। বৈঠকের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের শুরুতেই শি জিনপিং প্রাচীন গ্রিসের পেলোপনেশিয়ান যুদ্ধের উদাহরণ তুলে ধরেন। খ্রিস্টপূর্ব ৪৩১ সালে এথেন্স ও স্পার্টার মধ্যকার সংঘাতের প্রসঙ্গ টেনে তিনি ইঙ্গিত দেন, আধিপত্য বিস্তারের দ্বন্দ্ব ইতিহাসের মতো বর্তমান বিশ্ব রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে।
‘থুসিডাইডিস ট্র্যাপ’ তত্ত্বটি আধুনিক বিশ্বে জনপ্রিয় করেন মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী গ্রাহাম অ্যালিসন। তার আলোচিত বই ‘ডেস্টিনড ফর ওয়ার’-এ তিনি এই ধারণা বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন। প্রাচীন গ্রিক ইতিহাসবিদ থুসিডাইডিসের পর্যবেক্ষণ থেকেই তত্ত্বটির উৎপত্তি।
২০১২ সালে ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে প্রকাশিত এক নিবন্ধে অ্যালিসন প্রশ্ন তুলেছিলেন— আগামী কয়েক দশকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক প্রশ্ন হবে, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইডিসের ফাঁদ এড়িয়ে যেতে পারবে?
এই তত্ত্ব অনুযায়ী, যখন কোনো উদীয়মান শক্তি বিদ্যমান প্রভাবশালী শক্তির অবস্থানকে চ্যালেঞ্জ করে, তখন দুই পক্ষের সংঘাত প্রায়ই যুদ্ধের দিকে গড়ায়। বর্তমান সময়ে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে এই তত্ত্বের বাস্তব উদাহরণ হিসেবে দেখা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের দ্রুত উত্থান দীর্ঘদিনের মার্কিন বৈশ্বিক প্রভাবের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। শি জিনপিং বহু বছর ধরেই এই শব্দবন্ধ ব্যবহার করে আসছেন। তবে ট্রাম্পের সফরের সময় এটি উল্লেখ করার মাধ্যমে তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের অবস্থান আরও স্পষ্টভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
বৈঠকে তাইওয়ান প্রশ্নকে সবচেয়ে সংবেদনশীল ইস্যু হিসেবে উল্লেখ করে চীন সতর্ক করেছে, এ বিষয়ে কোনো ভুল পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্ককে গভীর সংকটে ফেলতে পারে।
অন্যদিকে, বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যমে জানান, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও ইতিবাচক ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশাবাদী।