আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, জুলাই-আগস্টের মধ্যেই কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছাবে পিস্তল

আপলোড সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০১:৪৭:৩১ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১৬-০৫-২০২৬ ০১:৪৭:৩১ অপরাহ্ন
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরও (ডিএনসি) অবৈধ মাদকদ্রব্যের পাচার রোধে ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তবে জনবল থাকার পরও নানা সক্ষমতার অভাবে সংস্থাটি যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না। কারণ আগ্নেয়াস্ত্র ছাড়াই মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে প্রতিষ্ঠানটির সদস্যরা প্রায়ই উল্টো দুর্বৃত্তদের টার্গেটে পড়ে যায়। তাদের অনেককেই দুর্বৃত্তদের হাতে গুলিবিদ্ধ হতে হয়। অনেকে শারীরিকভাবেও নির্যাতিত হন।

সম্প্রতি রাজধানীর সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এলাকায় অভিযান চালাতে গিয়ে মাদক কারবারিদের গুলিতে আহত হন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শক সিদ্দিকুর রহমান। পরে তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। এমন উদাহরণ অনেক। অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এবং মাদকবিরোধী অভিযানকে আরও গতিশীল করতে ২০২৪ সালে কর্মকর্তাদের আগ্নেয়াস্ত্র দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিভিন্ন প্রক্রিয়া শেষে শীঘ্রই আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পেতে চলেছেন কর্মকর্তারা। মাদক অধিদপ্তরের দায়িত্বশীল একটি সূত্র প্রতিদিনের বাংলাদেশকে জানিয়েছে, টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। সব ঠিকঠাক থাকলে আগামী জুলাই-আগস্টের মধ্যে এসব আগ্নেয়াস্ত্র কর্মকর্তার হাতে দেওয়া সম্ভব হবে।

সূত্র জানাচ্ছে, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও চালানোর দক্ষতা বাড়াতে ও প্রশিক্ষিত হতে বর্তমানে রাজশাহী সারদা পুলিশ একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন মাদক অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। ৩৫ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণে কয়েক ধাপে অংশ নিচ্ছেন ডিএনসির ৫৭৯ জন কর্মকর্তা। এ পর্যন্ত মোট ২৬০ জনকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। উপপরিদর্শক থেকে শুরু করে পরিদর্শক, সহকারী পরিচালক ও উপপরিচালকদের বর্তমানে এই প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকি কর্মকর্তারাও প্রশিক্ষণে অংশ নেবেন এবং অস্ত্রচালনায় পারদর্শী হয়ে অভিযান পরিচালনা করবেন। সংস্থাটির একাধিক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে অভিযানের সময় তাদের ঝুঁকিমুক্ত ও নিরাপদ রাখতে এ অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) ৫৭৯ কর্মকর্তাকে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অনুমোদন দিয়ে নীতিমালা চূড়ান্ত করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। নীতিমালায় বলা হয়, ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মোট জনবল ৩ হাজার ৫৯ জন। এর মধ্যে ৯০ জন উপপরিচালক, ৯৩ জন সহকারী পরিচালক, ১৮৬ জন পরিদর্শক এবং ২১০ জন উপপরিদর্শক রয়েছেন। তারা আগ্নেয়াস্ত্র বহন এবং ব্যবহারে অনুমতি পাচ্ছেন। তাদের জন্য অগ্রাধিকারভিত্তিতে অস্ত্র সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু করা হবে।

এই অস্ত্র ব্যবহারের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, ‘একমাত্র সর্বশেষ পন্থা’ হিসেবে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা যাবে। গত ২৪ নভেম্বর নীতিমালাটি চূড়ান্ত করার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দেওয়া হয়। নীতিমালায় বলা হয়েছে, সংস্থাটির উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, পরিদর্শক ও উপপরিদর্শক পদমর্যাদার কর্মকর্তারা ৯ মিমি সেমি অটোমেটিক টি-৫৪ পিস্তল পাবেন। মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা, আসামি গ্রেপ্তার ও আলামত উদ্ধার, আত্মরক্ষা বা সরকারি সম্পত্তি রক্ষার ক্ষেত্রে ‘একমাত্র সর্বশেষ পন্থা’ হিসেবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা গুলিবর্ষণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবেন। তবে আদেশ প্রদানকারীকে অধিদপ্তর বা নির্বাহী তদন্তে গুলি করার যৌক্তিকতা প্রমাণ করতে হবে। গুলি করার আদেশ দেওয়ার আগে যত দূর সম্ভব বলপ্রয়োগ (যেমন লাঠিপেটা ও অস্ত্রের বাঁট দিয়ে আঘাত) করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাতে হবে। নীতিমালায় আরও বলা হয়েছে, গুলি করার প্রয়োজন হলে প্রথমে কারও দিকে তাক না করে আকাশের দিকে ফাঁকা গুলি ছুড়তে হবে। ঘোষণা দিতে হবে, এরপর সরাসরি তাক করে গুলি চালানো যাবে। ফাঁকা গুলিতে কাজ না হলে মাদক কারবারির কোমরের নিচে, হাঁটু অথবা পায়ে একটি গুলি করা যাবে।

নীতিমালায় বলা হয়েছে, পুলিশ বিভাগ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর অস্ত্র নীতিমালার সঙ্গে সংগতি রেখে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (কর্মকর্তা-কর্মচারী) অস্ত্র সংগ্রহ নীতিমালা-২০২৪ প্রণয়ন করা হয়েছে। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণের বিষয়ে নীতিমালায় বলা হয়েছে, সেনাবাহিনী বা বিজিবি বা আনসার বা পুলিশ বিভাগের সহযোগিতায় সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ একাডেমিতে অধিদপ্তরের অগ্রাধিকারভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অস্ত্র পরিচালনার প্রশিক্ষণ দিতে হবে। পরে অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে থেকে দক্ষ প্রশিক্ষক তৈরি করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় প্রশিক্ষণ দিতে হবে।

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সহকারী পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব, জনসংযোগ শাখা) মো. আবদুল হালিম রাজ জানিয়েছেন, ‘নীতিমালা অনুযায়ী যারা আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করবেন তাদের প্রশিক্ষিত করেই অভিযানে নামানোর নির্দেশনা রয়েছে। সেভাবেই সবাইকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে অভিযান পরিচালনা করায় কর্মকর্তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস বাড়বে, দক্ষতা বাড়বে; ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানেও তারা নিরাপদ বোধ করবে। তখন অভিযানেও আরও বেশি সফলতা আসবে।’

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]