পবিত্র কোরবানির ঈদ সামনে রেখে মাদারীপুর জুড়ে খামারগুলোতে এখন তুমুল ব্যস্ততা। জেলার প্রায় ৪ হাজারের বেশি খামারে দিন-রাত সমানভাবে গবাদিপশুর পরিচর্যা চলছে। প্রান্তিক খামারিরা দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে ভালো দামে বিক্রির আশায় রয়েছেন।
খামারে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি
মাদারীপুর সদর উপজেলার দুধখালী ইউনিয়নের বড়কান্দি এলাকার সীমা বেগম ও মোক্তার চোকদার দম্পতি নিজেদের সঞ্চয়ে গড়ে তুলেছেন একটি খামার। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে তারা ৩৫টি গরু প্রস্তুত করেছেন। স্বামী-স্ত্রী মিলে নিজেরাই খামারের সব কাজ সামলাচ্ছেন এবং সবগুলো গরু বিক্রির ব্যাপারে আশাবাদী।
চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত
জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা প্রায় ৬৬ হাজার ৮৮০টি হলেও প্রস্তুত রয়েছে ৭২ হাজার ৪৯৫টি পশু। ফলে স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে দেশের অন্যান্য জেলাতেও পশু সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে খামারিদের।
দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ
খামারগুলোতে কোনো ধরনের ক্ষতিকর ইনজেকশন বা ওষুধ ব্যবহার না করে খড়, ভুসি ও ঘাস খাইয়ে গরু মোটাতাজা করা হচ্ছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে পাম্পের পানি দিয়ে গোসল করানো হচ্ছে পশুগুলোকে।
লাভের আশায় খামারিরা
খামারিদের প্রত্যাশা, ভারত থেকে অবৈধভাবে গরু আমদানি বন্ধ থাকলে দেশীয় পশুর ভালো দাম পাওয়া যাবে। এতে গত বছরের লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
খামারি মোক্তার চোকদার বলেন, সারা বছর কোরবানির ঈদের অপেক্ষায় থাকেন তারা। ভালো দাম পেলে ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে খামার পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রশাসনের প্রস্তুতি
পশুর হাটগুলোকে ঘিরে ইতোমধ্যে ১৬টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসনও প্রস্তুত রয়েছে। হাটগুলোতে বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি এবং সাদা পোশাকেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সবকিছু অনুকূলে থাকলে এবারের কোরবানির ঈদ ঘিরে মাদারীপুরের খামারিরা ভালো লাভ করতে পারবেন।