ইরানের সঙ্গে চলমান পরমাণু আলোচনায় কিছু অগ্রগতির ইঙ্গিত মিললেও যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করে জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নির্ধারিত ‘রেড লাইন’ পূরণ না হলে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী নিয়ে নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার সম্ভাবনা নাকচ করেছে ইরান, ফলে কূটনৈতিক অগ্রগতির মধ্যেও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বলেন, আলোচনার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে ইরানকে স্থায়ীভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা থেকে বিরত রাখা। তার মতে, এই লক্ষ্য নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো সমঝোতা চূড়ান্ত হবে না।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সাম্প্রতিক এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে কয়েকটি কঠোর শর্ত উপস্থাপন করে। এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত রাখা এবং ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত সরিয়ে নেওয়া। এর বিনিময়ে ইরানের জব্দ করা প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার ছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়।
তবে তেহরানের দাবি, প্রাথমিক পর্যায়ে আলোচনায় কিছু নমনীয়তা থাকলেও পরে ওয়াশিংটন নিজ অবস্থান কঠোর করে এবং প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। ফলে সমঝোতার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এদিকে হরমুজ প্রণালী ইস্যুতে ইরান তার অবস্থান আরও স্পষ্ট করেছে। দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ বলেছেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের ওপর ইরানের অধিকার নিয়ে কোনো আপসের সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি দেশটির অবকাঠামোতে হামলা চালায়, তবে দ্রুত পাল্টা জবাব দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর নিয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ইসরাইলের পক্ষ থেকে গোপন সফরের দাবি করা হলেও আবুধাবি তা সরাসরি অস্বীকার করেছে। আমিরাতের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো সফর বা সামরিক প্রতিনিধিদল গ্রহণের তথ্য সঠিক নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক আলোচনা চললেও উভয় পক্ষের অনড় অবস্থান পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে উত্তেজনা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে, যা এশিয়াসহ আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলোর জন্য বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।