২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে হেফাজতে ইসলামের শাপলা চত্বর সমাবেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ঢাকাসহ সারা দেশে মোট ৫৮ জন নিহত হয়েছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে তদন্ত সংস্থা। এই হত্যাকাণ্ডে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আগামী ৭ জুন এই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য রয়েছে।
চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ৫ মে দিন ও রাতে শুধু ঢাকায় ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জে ২০ জন, চট্টগ্রামে ৫ জন এবং কুমিল্লায় ১ জন নিহত হন। নিহতদের কবর, পরিবারের সদস্যদের সাক্ষ্য এবং ময়নাতদন্তের তথ্যের ভিত্তিতে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে। রাজধানীর জুরাইন কবরস্থানে হেফাজতকর্মীদের অনেক লাশ দাফন করা হয়েছিল বলেও তদন্তে উঠে এসেছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনাই এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী এবং তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তৎকালীন বাহিনী প্রধান, পুলিশ কমিশনারসহ আরও প্রায় ৩০ জনকে আসামি করা হচ্ছে। এ মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি কেএম শহীদুল হক, বেনজীর আহমেদ এবং গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ আরও অনেকের নাম রয়েছে। প্রসিকিউশন ঘটনাটিকে 'সিস্টেম্যাটিক ক্রাইম' বা পরিকল্পিত অপরাধ হিসেবে দেখছে।
এ ছাড়া সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি এবং সাংবাদিক মোজাম্মেল বাবু ও ফারজানা রুপার ভূমিকাও খতিয়ে দেখছে প্রসিকিউশন। শাপলা চত্বরের ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে একটি বিতর্কিত প্রতিবেদন তৈরির অভিযোগে ফারজানা রুপাসহ তিনজনকে আগামী ১৪ মে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মামলার প্রায় ৯০ ভাগ তদন্ত ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।