ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা ঘিরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা সরাসরি নাকচ করে ইসলামাবাদের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়েছেন। পাকিস্তানের কূটনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই তিনি দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্বের প্রশংসা করেন এবং তাদের ভূমিকা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (১২ মে) দেওয়া বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর যে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, সেখানে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পর ওই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এই প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল অসীম মুনিরের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন তিনি।
এর আগে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম পাকিস্তানের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনের উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান নাকি সম্ভাব্য মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলা থেকে সুরক্ষার জন্য ইরানের বিমানকে তাদের ঘাঁটিতে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছে। যদিও ইসলামাবাদ এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ড্যান কেইনের কাছে ব্যাখ্যা চান গ্রাহাম। তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কতটা নিরপেক্ষভাবে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পারবে। তবে হেগসেথ এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে যান।
গ্রাহাম আরও বলেন, যদি পাকিস্তান সত্যিই ইরানের সামরিক সম্পদ রক্ষায় সহায়তা করে থাকে, তবে তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। তার মতে, এমন হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত বিকল্প মধ্যস্থতাকারী খোঁজা।
বর্তমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা ও দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, যেখানে একদিকে ট্রাম্প প্রশাসন পাকিস্তানের ভূমিকার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে, অন্যদিকে কিছু প্রভাবশালী রাজনীতিক তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।