যুক্তরাষ্ট্রের জবাবে জমা দেওয়া প্রস্তাবকে ‘যুক্তিসঙ্গত ও উদার’ হিসেবে বর্ণনা করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানিয়েছেন, এই প্রস্তাবে ইরান কেবল তার ন্যায্য অধিকার রক্ষা, আঞ্চলিক সংঘাতের অবসান এবং নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়গুলোই তুলে ধরেছে।
সোমবার (১১ মে) সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ইরান তার আইনসম্মত অধিকারের বাইরে কোনো ছাড় দাবি করেনি। বরং প্রস্তাবটিতে অঞ্চলজুড়ে চলমান সংঘাত বন্ধ, ইরানি জাহাজের বিরুদ্ধে আক্রমণ বা জলদস্যুতা প্রতিরোধ এবং দীর্ঘদিন ধরে জব্দ থাকা ইরানি সম্পদ মুক্ত করার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালী দিয়ে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করা এবং মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নেওয়া পদক্ষেপগুলোকে অতিরিক্ত বা অযৌক্তিক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবের প্রতিটি উপাদানই বাস্তবসম্মত এবং বৃহত্তর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক স্বার্থ বিবেচনায় প্রণয়ন করা হয়েছে।
বাঘাই অভিযোগ করেন, আলোচনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অগ্রগতি সম্ভব হলেও যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রভাবিত অবস্থান থেকে কিছু ‘অযৌক্তিক দাবি’ উত্থাপন করছে, যা আলোচনাকে জটিল করে তুলছে।
এদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সদিচ্ছা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, সে বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, তেহরানের বর্তমান অগ্রাধিকার হলো লেবাননসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ এলাকায় যুদ্ধ বন্ধ করা, হরমুজ প্রণালীতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সামুদ্রিক পথে যেকোনো বৈরী কার্যক্রম প্রতিরোধ করা। তিনি এসব উদ্যোগকে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করেন।
ভবিষ্যৎ আলোচনা এবং সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বাঘাই বলেন, ইরান তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে, তবে একই সঙ্গে পরিস্থিতি অনুযায়ী কূটনৈতিক পথও অব্যাহত রাখবে।