রোববার শপথ নেওয়ার পরদিনই তামিলনাড়ুর নতুন মুখ্যমন্ত্রী সি জোসেফ বিজয় তার পূর্বসূরি ও ডিএমকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। চেন্নাইয়ের আলওয়ারপেটের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যদিও বৈঠকের নির্দিষ্ট আলোচনা সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মাধ্যমে বিজয়ের নেতৃত্বাধীন দল টিভিকে রাজ্যের দীর্ঘদিনের ডিএমকে-এআইএডিএমকে দ্বৈত আধিপত্য ভেঙে দিয়েছে। তবে এককভাবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় কংগ্রেসসহ অন্যান্য দলের সমর্থনে জোট গড়ে ১২০ আসনে পৌঁছায় দলটি। এর পরই বিজয় তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
সাক্ষাতের সময় এম কে স্ট্যালিন এবং উদয়নিধি স্ট্যালিন উভয়েই বিজয়কে স্বাগত জানান। গণমাধ্যমে প্রকাশিত দৃশ্যে দেখা যায়, দুই নেতা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানিয়ে করমর্দন ও আলিঙ্গন করেন। এই সাক্ষাৎ নির্বাচনের পর দুই নেতার প্রথম সরাসরি বৈঠক।
এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় স্ট্যালিন নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে তিনি নতুন প্রশাসনকে পূর্ববর্তী সরকারের ওপর আর্থিক সংকটের দায় চাপানোর পরিবর্তে জনগণের প্রতি দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।
স্ট্যালিন আরও উল্লেখ করেন, রাজ্যের আর্থিক অবস্থা নিয়ে অতিরঞ্জিত মন্তব্য না করে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া উচিত। তার দাবি, কোভিড-১৯ মহামারি, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং কেন্দ্রীয় সরকারের নানা চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও পূর্ববর্তী সরকার জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সক্ষম হয়েছিল এবং রাজ্যের ঋণ অনুমোদিত সীমার মধ্যেই রয়েছে।
অন্যদিকে, শপথ গ্রহণের সময় বিজয় নিজেকে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে তুলে ধরে বলেন, তিনি অবাস্তব প্রতিশ্রুতি দেবেন না। ধর্মনিরপেক্ষতা, সুশাসন এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেন এই ৫১ বছর বয়সী নেতা।