দেশে প্রায় নির্মূল হওয়া হাম রোগের ভয়াবহ পুনরুত্থানের পেছনে টিকার সংকট ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। অভিযোগ উঠেছে, টিকা ক্রয়পদ্ধতি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিতে গিয়ে জরুরি মজুত নিশ্চিত না করেই হাম ও পোলিওর টিকা সংগ্রহ বন্ধ রেখেছিল তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।
এর ফলে দেশে দ্রুত বাড়তে থাকে হামের সংক্রমণ। গত দুই মাসের কম সময়ে প্রায় ৫০ হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সময়ে প্রাণ হারিয়েছে সাড়ে তিন শতাধিক মানুষ, যাদের বেশিরভাগই শিশু।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, পরিস্থিতি এতটা ভয়াবহ হওয়ার আগেই সরকারকে সতর্ক করেছিল ইউনিসেফ। সংস্থাটির ঢাকা অফিস থেকে তৎকালীন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূর জাহান বেগম-কে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছিল, পর্যাপ্ত মজুত ছাড়া টিকা কেনা বন্ধ রাখা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
পরে বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী সায়েন্স ম্যাগাজিন-এর ওয়েবসাইটেও লেখা প্রকাশ করেন ইউনিসেফের ঢাকা অফিসের এক কর্মকর্তা। তবে সেই সতর্কতা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে স্বাস্থ্যব্যবস্থা পরিচালনার উদ্যোগ ভালো হলেও জরুরি স্বাস্থ্যঝুঁকিকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, বিশেষজ্ঞরা দেড় বছর আগেই দ্রুত হামের টিকা আমদানির পরামর্শ দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও অন্যান্য অর্থনৈতিক বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়া হলেও জনস্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় দ্রুততা দেখানো হয়নি।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানিয়েছেন, হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার জরুরি ভিত্তিতে আগের পদ্ধতিতেই টিকা সংগ্রহের ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার টিকা ক্রয়পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে চাইলেও তা ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি অতীতের ব্যর্থতা নিয়ে দোষারোপে না গিয়ে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে কাজ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।