গাজীপুরে নারী চা দোকানি হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন, গ্রেফতার ৩

আপলোড সময় : ১০-০৫-২০২৬ ১১:৪২:০৯ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ১০-০৫-২০২৬ ১১:৪২:০৯ অপরাহ্ন

গাজীপুরের পূবাইল এলাকায় নারী চা দোকানি শেফালি বেগম কুলসুম হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়ার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
 

গ্রেফতাররা হলেন কামরুজ্জামান (৩৫), আমজাদ হোসেন (৩০) ও আফজাল হোসেন (৩৩)। তারা রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে গাজীপুরের পূবাইল এলাকার মেঘডুবিতে বসবাস করছিলেন।
 

পিবিআই জানায়, নিহত শেফালি বেগম মেঘডুবি এলাকায় নিজ বাসায় চা ও পান দোকান পরিচালনার পাশাপাশি কয়েকটি কক্ষ ভাড়া দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পারিবারিক বিরোধের কারণে প্রায় এক বছর আগে তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় এবং এরপর থেকে তিনি একাই বসবাস করতেন।
 

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ এপ্রিল দুপুরে নিহতের মেয়ে ময়না আক্তার স্মৃতি মায়ের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলেন। পরে রাতে আত্মীয়রা বাসার গেট বন্ধ দেখতে পেয়ে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় ঘরের বিছানায় কম্বলের নিচে শেফালি বেগমের রক্তাক্ত মরদেহ পাওয়া যায়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
 

ঘটনার পর নিহতের মেয়ে পূবাইল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তের একপর্যায়ে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ৮ মে রাতে রংপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
 

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা জানান, তারা স্থানীয় একটি পলিমার কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং নিহতের দোকান থেকে বাকিতে পণ্য নিতেন। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি শেফালি বেগমের কাছে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার রয়েছে—এমন ধারণা থেকে তারা ডাকাতির পরিকল্পনা করেন।
 

পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তারা ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভুক্তভোগীকে অচেতন করার চেষ্টা করে। পরে বাঁশের লাঠি ও ধারালো দা দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর তারা ঘর থেকে নগদ টাকা ও কিছু গয়না নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে গয়নাগুলো বিক্রি করতে গিয়ে জানতে পারে সেগুলো আসল স্বর্ণ নয়, সিটিগোল্ড।
 

পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো দা ও একটি বাঁশের লাঠি উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতার দুই আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অন্য আসামি আফজাল হোসেনকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
 

পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, তথ্যপ্রযুক্তি, স্থানীয় সূত্র এবং পেশাদার তদন্তের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই মামলার রহস্য উদঘাটন সম্ভব হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

 
 
 
 

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]