আরবের মরুতে ‘গ্রেট গেম’: ছায়াযুদ্ধে মুখোমুখি বৈশ্বিক শক্তি

আপলোড সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১০:০৪:৪৩ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ০৯-০৫-২০২৬ ১০:০৪:৪৩ অপরাহ্ন

মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে এমন এক জটিল ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, যেখানে দৃশ্যমান সংঘাতের পাশাপাশি অদৃশ্য এক ‘ছায়া যুদ্ধ’ চলছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিপরীতে ইরানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে আরেক শক্তি বলয়, যার সঙ্গে রাশিয়া ও চীনের কৌশলগত সম্পৃক্ততা স্পষ্ট। এই পরিস্থিতি কেবল আঞ্চলিক নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
 

বর্তমান বাস্তবতায় মধ্যপ্রাচ্য যেন একটি বড় দাবার বোর্ড, যেখানে একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইসরাইল, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশগুলো অবস্থান করছে। অন্যদিকে ইরানকে ঘিরে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন একটি বিকল্প শক্তি কাঠামো তৈরি করছে। এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা সরাসরি যুদ্ধের মাধ্যমে নয়, বরং প্রক্সি গোষ্ঠী, অর্থনৈতিক চাপ, কূটনৈতিক তৎপরতা ও সাইবার কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে, যা ‘ছায়া যুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত।
 

ছায়া যুদ্ধ বলতে বোঝায়—দুই বা ততোধিক রাষ্ট্র সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে পরোক্ষভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়। এতে স্থানীয় গোষ্ঠী বা মিত্রদের ব্যবহার, গোপন অভিযান, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কৌশলগত জোট গঠন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠী এবং যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শক্তিগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে এমন সংঘাত চলমান, যা পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করে রেখেছে।
 

এই অঞ্চলের কৌশলগত গুরুত্বের পেছনে রয়েছে তিনটি প্রধান কারণ—বিশ্বের বৃহৎ তেল ও গ্যাসের মজুত, ইউরোপ-এশিয়া-আফ্রিকার সংযোগস্থল হিসেবে ভৌগোলিক অবস্থান এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে নির্ভরশীলতা। ফলে এখানে যেকোনো অস্থিরতা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে।
 

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় রয়েছে মূলত জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, মিত্র দেশগুলোর সুরক্ষা এবং বৈশ্বিক প্রভাব বজায় রাখার লক্ষ্যে। বিশেষ করে ইসরাইলের নিরাপত্তা এবং উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এই অঞ্চলে তাদের উপস্থিতি শক্তিশালী করেছে।

অন্যদিকে ইরান তার আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার করতে চায় এবং এই লক্ষ্য অর্জনে রাশিয়া ও চীনের সমর্থন পাচ্ছে। তাদের লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমানো এবং বিকল্প শক্তির ভারসাম্য গড়ে তোলা। এই প্রেক্ষাপটে বিশ্ব একক নেতৃত্ব (ইউনিপোলার) থেকে বহুমুখী নেতৃত্ব (মাল্টিপোলার) ব্যবস্থার দিকে এগোচ্ছে—এমন বিশ্লেষণও উঠে আসছে।

এই পুরো প্রতিযোগিতায় তেল এবং মার্কিন ডলার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যের বড় অংশই ডলারে হওয়ায় বিশ্বব্যাপী ডলারের চাহিদা স্থায়ীভাবে বজায় থাকে। এই ব্যবস্থাকে ‘পেট্রোডলার সিস্টেম’ বলা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রকে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বিশেষ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিকল্প মুদ্রা ব্যবস্থার আলোচনা বাড়ায় ডলারের আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখেও পড়ছে।

সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান এই ছায়াযুদ্ধ কেবল আঞ্চলিক সংকট নয়, বরং বৈশ্বিক শক্তির ভবিষ্যৎ ভারসাম্য নির্ধারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]