দ্রুত নগরায়ণ ও অপরিকল্পিত স্থাপনা নির্মাণের কারণে দেশের শহরাঞ্চলে খেলার মাঠের সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এতে শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ পেয়েছে, একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তুলতে শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত জায়গা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
খেলার মাঠ শুধু বিনোদনের স্থান নয়; এটি শিশু-কিশোরদের শারীরিক সক্ষমতা, মানসিক প্রশান্তি, সামাজিক আচরণ ও নেতৃত্বগুণ বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। মাঠে খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুরা দলগত কাজ, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মতো গুরুত্বপূর্ণ মানবিক গুণাবলি অর্জন করে।
বর্তমানে অনেক শিশু ও কিশোর দীর্ঘ সময় মোবাইল ফোন, কম্পিউটার ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। শারীরিক খেলাধুলার অভাবে স্থূলতা, চোখের সমস্যা, মানসিক চাপ এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতার মতো ঝুঁকি বাড়ছে। নিয়মিত খেলাধুলা শিশুদের শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
অনেক শহরে আবাসিক এলাকা ও বাণিজ্যিক স্থাপনা নির্মাণের সময় খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব পায় না। ফলে শিশুদের খেলাধুলার জন্য নিরাপদ পরিবেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। কোথাও কোথাও বিদ্যমান মাঠও দখল, অব্যবস্থাপনা বা অন্য কাজে ব্যবহার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
শিশুদের সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শুধুমাত্র পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষা শিশুদের পূর্ণাঙ্গ বিকাশ নিশ্চিত করতে পারে না।
শহরে পর্যাপ্ত খেলার মাঠ থাকলে তরুণদের খেলাধুলা ও ইতিবাচক সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততা বাড়ে। এতে মাদকাসক্তি, কিশোর অপরাধ ও সামাজিক সহিংসতার ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা হতে পারে।
নগর পরিকল্পনায় প্রতিটি আবাসিক এলাকায় খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থান বাধ্যতামূলকভাবে রাখার বিষয়ে কার্যকর নীতি প্রয়োজন। একইসঙ্গে দখল হয়ে যাওয়া মাঠ উদ্ধার, বিদ্যমান মাঠ সংস্কার এবং শিশু-কিশোরদের জন্য নিরাপদ খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার।
একটি শহরের উন্নয়ন শুধু উঁচু ভবন ও সড়ক নির্মাণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং নাগরিকদের সুস্থ ও মানবিক জীবনযাপনের সুযোগ নিশ্চিত করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর সেই লক্ষ্য পূরণে খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত সবুজ জায়গার বিকল্প নেই।