কালবৈশাখী ঝড়ের আঘাতে মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে ডুবে গেছে ভুট্টাবোঝাই দুটি ট্রলার। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে পাটুরিয়া ঘাটের ৩ নম্বর জেটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত বা নিখোঁজের খবর পাওয়া যায়নি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রলার দুটি ঘাটের পাশে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল। হঠাৎ কালবৈশাখীর তীব্র ঝড় শুরু হলে পদ্মায় তীব্র ঢেউ ও প্রবল স্রোত তৈরি হয়। ঝড়ের তোড়ে ট্রলারের বাঁধন ছিঁড়ে যায় এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই নৌযান দুটি নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। একজন ট্রলার মালিক নিজের নৌযান রক্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মরিয়া চেষ্টা চালান এবং এক পর্যায়ে নদীতে পড়ে যান। তবে স্থানীয়রা টর্চলাইট ও মোবাইলের আলোয় খোঁজাখুঁজি করলে তিনি সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন।
পাটুরিয়া নৌ-থানার ওসি কেএম নজরুল ইসলাম জানান, ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে ভুট্টা আনলোড করার কাজ চলছে এবং মালামাল তোলা শেষ হলে প্রশিক্ষিত ডুবুরিদের সহায়তায় ট্রলার দুটি উদ্ধার করা হবে। রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার। কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও দুর্যোগের রাতে কয়েকটি সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ঘটনাস্থলে অনুপস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে ঝড়ের কারণে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে প্রায় দেড় ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়, যার ফলে উভয় ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ফেরি চলাচল পুনরায় শুরু হয়। বিআইডব্লিউটিএর বন্দর কর্মকর্তা সুব্রত পলাশ রায় নৌযান চালকদের বৈরী আবহাওয়ায়, বিশেষত রাতের বেলায় অপ্রয়োজনে নদীপথে চলাচল না করার পরামর্শ দেন।