কক্সবাজারের টেকনাফে নাফ নদীতে এক জেলের জালে ৩৫ কেজি ওজনের ছয়টি কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। এর মধ্যে একটির ওজন ২৩ কেজি। পরে মাছগুলোর ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট সংলগ্ন নদীতে নুরুল আমিন মাঝির জালে মাছগুলো ধরা পড়ে বলে জানান টেকনাফ উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. ওবায়দুল হক।
জেলে নুরুল আমিন মাঝি বলেন, সকাল ৯টার দিকে শাহপরীর দ্বীপ ঘোলার চর ও জেটিঘাট এলাকার নাফ নদীতে জাল ফেলেন তিনি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর জাল তোলা শুরু করেন। প্রথমে ২৩ কেজির কোরাল মাছ ধরা পড়ে। এরপর ছোট ছোট আরও পাঁচটি মাছ ধরা পড়ে। খবর বিডিনিউজের।
মাছগুলো তুলে জেটি ঘাটে নিলে পর্যটক ও স্থানীয়রা দেখতে ভিড় করেন। পরে এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে মাছগুলো চট্টগ্রামের শাহপরীর গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. ইয়াহিয়ার কাছে ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়।
দিনাজপুর থেকে শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাটে বেড়াতে আসা এক দম্পতি জানান, আগে এমন বড় কোরাল মাছ টেলিভিশনে দেখেছেন তারা; যা আজ নিজ চোখে দেখলেন। তবে তাদের এলাকায় এই মাছকে ভেটকি মাছ বলে। মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ ইলিয়াস বলেন, সাগরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় এখন নদীতে জেলেদের জালে বড় বড় কোরাল মাছ ধরা পড়ছে। চট্টগ্রামে বড় কোরালের বেশি চাহিদা ও দাম রয়েছে।
মৎস্য কর্মকর্তা ওবায়দুল হক বলেন, নাফ নদীতে প্রায় সময় কোরাল মাছ ধরা পড়ে। নাফের কোরালের স্বাদও বেশ ভালো। এক একটি মাছ সাধারণত ৩০ থেকে ৩৫ কেজি ওজনের হয়। দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গা ইস্যুতে নাফ নদীতে মাছ শিকার বন্ধ ছিল। এছাড়া প্রজনন মৌসুমসহ সরকারি বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা মেনে চলায় নাফ নদীতে এখন বড় বড় কোরাল মাছ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানান তিনি।