তামিলনাড়ু বিধানসভায় সর্বোচ্চ আসন পেয়েও সরকার গঠনের পথে বাধার মুখে পড়েছে অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)। এই পরিস্থিতিতে দলটি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে — ডিএমকে বা এআইএডিএমকে সরকার গঠনের উদ্যোগ নিলে টিভিকের নির্বাচিত ১০৭ জন বিধায়ক একযোগে পদত্যাগ করবেন।
২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। টিভিকে ১০৭টি আসন পেলেও কংগ্রেসের ৫ বিধায়কের সমর্থন যোগ করেও সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাপকাঠি ছুঁতে পারছে না দলটি। এই অবস্থায় বাম দল ও কয়েকটি ছোট দলের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং আদালতে যাওয়ারও প্রস্তুতি নিচ্ছে টিভিকে। গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার বৃহস্পতিবার বিজয়ের সরকার গঠনের প্রস্তাব নাকচ করে দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আগে ১১৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র জমা দিতে হবে।
এদিকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ডিএমকে ও এআইএডিএমকে একজোট হয়ে বিকল্প সরকার গঠনের পথে হাঁটতে পারে। ডিএমকের এক শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, এআইএডিএমকে প্রধান এডাপ্পাডি কে পলানিস্বামীকে মুখ্যমন্ত্রী করে বাইরে থেকে সমর্থনের সম্ভাব্য সমীকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে। বৃহস্পতিবার ডিএমকের দলীয় বৈঠকে প্রধান এম কে স্ট্যালিনকে 'জরুরি সিদ্ধান্ত' নেওয়ার বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং ১০ মে পর্যন্ত সব বিধায়ককে চেন্নাইয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে দলের ভেতরেই এই সমীকরণ নিয়ে মতভেদ স্পষ্ট। তরুণ নেতাদের আশঙ্কা, বিজয় ক্ষমতায় এলে দীর্ঘমেয়াদে রাজনৈতিকভাবে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারেন। অন্যদিকে প্রবীণ নেতারা সতর্ক করছেন, দীর্ঘদিনের দুই রাজনৈতিক শত্রু এক হলে ভোটারদের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে। এআইএডিএমকেও এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো অবস্থান নেয়নি। পলানিস্বামী তাঁর দলীয় বৈঠকে স্পষ্ট বলেছেন, টিভিকের সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এবং বিধায়ক ভাঙানোর প্রশ্ন আসে না।
গভর্নরের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা উঠেছে। সিপিআই ও ভিসিকে নেতা থোল থিরুমাভালাভান বলেছেন, সংবিধান অনুযায়ী একক বৃহত্তম দলকে সরকার গঠনের সুযোগ দিয়ে বিধানসভায় আস্থা ভোটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়াই সঠিক পদ্ধতি। ডিএমকেও গভর্নরের সিদ্ধান্তকে 'জনরায়ের প্রতি অসম্মান' বলে আখ্যা দিয়েছে। অভিনেতা কমল হাসানও বিজয়ের পক্ষে সরব হয়েছেন।