এআই ভিডিও নিয়ে বিভ্রান্তি: মানুষকে সচেতন করার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের

আপলোড সময় : ০৭-০৫-২০২৬ ১০:১৭:৫৮ পূর্বাহ্ন , আপডেট সময় : ০৭-০৫-২০২৬ ১০:১৮:৫৯ পূর্বাহ্ন
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে এখন খুব সহজেই বাস্তবের মতো ভিডিও তৈরি করা সম্ভব হচ্ছে। তবে প্রযুক্তির এই অগ্রগতির পাশাপাশি বাড়ছে বিভ্রান্তি, গুজব ও প্রতারণার ঝুঁকি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া ভিডিও বা ‘ডিপফেইক’ সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এখন সময়ের বড় প্রয়োজন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই এমন কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে, যেগুলো দেখতে একেবারে বাস্তব মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সেগুলো এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি। অনেক ক্ষেত্রে এসব ভিডিও ব্যবহার করে গুজব ছড়ানো, মানুষের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কিংবা বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

ডিপফেইক প্রযুক্তি কী?
ডিপফেইক হলো এমন একটি প্রযুক্তি, যেখানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে কারও মুখ, কণ্ঠ বা আচরণ নকল করে নতুন ভিডিও তৈরি করা হয়। এতে একজন মানুষ এমন কথা বলছেন বা কাজ করছেন বলে মনে হতে পারে, যা তিনি বাস্তবে কখনোই করেননি।

সাধারণ মানুষ সহজেই বিভ্রান্ত হচ্ছেন
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক মানুষ এখনো এআই ভিডিও সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না। ফলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যেকোনো ভিডিওকেই সত্য মনে করে শেয়ার করছেন। এতে ভুল তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে।

প্রতারণা ও সামাজিক অস্থিরতার ঝুঁকি
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এআই ভিডিও ব্যবহার করে আর্থিক প্রতারণা, রাজনৈতিক বিভ্রান্তি কিংবা সামাজিক উত্তেজনা সৃষ্টি করা সম্ভব। কোনো ব্যক্তির কণ্ঠ নকল করে ফোন কল বা ভিডিও তৈরি করেও প্রতারণার ঘটনা ঘটতে পারে।

যেভাবে সচেতন থাকা যায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনো ভিডিও দেখেই তাৎক্ষণিক বিশ্বাস না করে প্রথমে যাচাই করা উচিত। ভিডিওর উৎস, প্রকাশকারী পেজ বা সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করতে হবে। সন্দেহজনক ভিডিও যাচাই ছাড়া শেয়ার না করারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ডিজিটাল শিক্ষার প্রয়োজন
তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, স্কুল-কলেজ পর্যায় থেকেই ডিজিটাল সচেতনতা শিক্ষা চালু করা প্রয়োজন। এতে মানুষ অনলাইনে ভুয়া তথ্য ও এআই ভিডিও সহজে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়িত্বও গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেসবুক, ইউটিউবসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মেরও দায়িত্ব রয়েছে ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার। একই সঙ্গে প্রযুক্তি ব্যবহারে নৈতিকতার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

এআই প্রযুক্তি মানুষের জীবনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর অপব্যবহার সমাজে বিভ্রান্তি ও ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রযুক্তির সুফল গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি এবং তথ্য যাচাইয়ের অভ্যাস গড়ে তোলাই এখন সবচেয়ে জরুরি।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]