যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছেন, চলমান সংকট নিরসনে প্রস্তাবিত চুক্তিতে সম্মত না হলে দেশটির ওপর হামলা আরও তীব্র হতে পারে। বুধবার (৬ মে) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন, একই সঙ্গে চুক্তি হলে সংঘাত ও অবরোধের অবসানের ইঙ্গিতও দেন।
ট্রাম্প জানান, আলোচনায় যে শর্তগুলো নির্ধারিত হয়েছে, ইরান সেগুলো মেনে নিলে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ সমাপ্ত করা সম্ভব হবে। তবে ইরান এই শর্তগুলো গ্রহণ করবে কি না, সে বিষয়ে অনিশ্চয়তার কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতা হলে হরমুজ প্রণালীতে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর আরোপিত মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়া হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ আবার সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে।
অন্যদিকে, চুক্তিতে অগ্রগতি না হলে সামরিক পদক্ষেপ আরও বাড়তে পারে বলেও স্পষ্ট করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ইরান যদি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, তাহলে পুনরায় বোমা হামলা শুরু হবে এবং সেটির মাত্রা ও তীব্রতা আগের চেয়ে বেশি হতে পারে।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব এখনো পর্যালোচনাধীন রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই জানান, যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দেওয়া প্রস্তাব নিয়ে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সংঘাত বন্ধে এক পৃষ্ঠার একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের দিকে এগোচ্ছে দুই দেশ। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর এটাই দুই পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থান, যদিও এখনও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত বাকি রয়েছে।
এছাড়া হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার লক্ষ্যে শুরু করা সামরিক অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার কথাও উঠে এসেছে বিভিন্ন প্রতিবেদনে। যুক্তরাষ্ট্র আশা করছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরানের পক্ষ থেকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্পষ্ট জবাব পাওয়া যাবে, যা পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।