যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অগ্রগতির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি প্রশমনের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমেছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারে।
বার্তা সংস্থা Reuters–এর প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার (৬ মে) গ্রিনিচ মান সময় সকাল ১০টা ৪২ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ দশমিক ০৭ ডলার বা ৯ দশমিক ২ শতাংশ কমে ৯৯ দশমিক ৮০ ডলারে নেমে আসে। এটি দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়।
একই সময়ে আমেরিকান বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দামও বড় পতনের মুখে পড়ে। ডব্লিউটিআইয়ের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০ দশমিক ৭৯ ডলার বা ১০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ৯১ দশমিক ৪৮ ডলারে।
এর আগে গত সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির উত্তেজনায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি পৌঁছেছিল, যা ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ ছিল। তবে সম্ভাব্য কূটনৈতিক অগ্রগতির খবরে বাজারে নতুন করে স্বস্তি ফিরে আসে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios জানিয়েছে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারকের কাছাকাছি পৌঁছেছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় হওয়া আলোচনায় একটি খসড়া চুক্তি নিয়ে কাজ চলছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য চুক্তিতে ১৪টি মূল বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করা, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কিছু নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয় রয়েছে।
এছাড়া ইরানের অবরুদ্ধ কয়েক বিলিয়ন ডলারের অর্থ ছাড় এবং পাল্টা হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সাময়িক স্থগিত রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে বলে জানা গেছে।
তবে এখন পর্যন্ত ওয়াশিংটন বা তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চূড়ান্ত চুক্তির ঘোষণা দেয়নি। তবুও কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের আশঙ্কা কমিয়েছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।