পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর থেকে রাজ্যজুড়ে সহিংসতায় চারজন নিহত হয়েছেন। হাওড়ার উদয়পুর ও রাজারহাট নিউ টাউনে দুই বিজেপি কর্মী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করছে পদ্মশিবির। পাল্টা অভিযোগ তুলে তৃণমূল কংগ্রেস বলছে, বীরভূমের নানুর এবং কলকাতার বেলেঘাটায় বিজেপি কর্মীরা তাদের দুই সদস্যকে হত্যা করেছে।
বীরভূম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, নদিয়া ও বাঁকুড়াসহ একাধিক জেলায় দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। আসানসোল শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের একাধিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। রূপনারায়ণপুর, কুলটি, রানিগঞ্জ, জামুড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তৃণমূলের কার্যালয় ভাঙচুর ও গেরুয়া রঙে রাঙিয়ে দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। তবে বিজেপি এসব ঘটনার দায় অস্বীকার করেছে।
সহিংসতা রুখতে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অভিযুক্তদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে এবং রাজ্যের পুলিশ ও প্রশাসনকে সতর্ক থাকতে বলেছেন তিনি।
এদিকে ২০৭ আসন জিতে সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে বিজেপি। নতুন মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে পরিষদীয় দলনেতা বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে। সহকারী পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পেয়েছেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহনচরণ মাঝি। নরেন্দ্র মোদির ঘনিষ্ঠ অমিত শাহকে এই দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা বেশ বিরল বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা, যা পশ্চিমবঙ্গের এই জয়কে বিজেপি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব কতটা গুরুত্ব দিচ্ছে তার ইঙ্গিত বহন করে।