সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় শ্রমিক সংকট ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে না পেরে বিপাকে পড়া কৃষকদের সহায়তায় মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। ছুটির দিনে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে দরিদ্র কৃষকদের পাকা বোরো ধান কেটে দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সনজীব সরকার। প্রশাসনের এ উদ্যোগে উপকৃত কৃষক পরিবারগুলো স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
শুক্রবার (১ মে) উপজেলার বরাম হাওরের নরোত্তমপুর এলাকায় তিন কৃষকের প্রায় চার কেদার জমির ধান কাটেন বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রায় ৪৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী। ধান কাটার এই কার্যক্রমে অংশ নেন উপজেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারাও।
স্থানীয় কৃষক লুৎফুর রহমান জানান, তার জমির ধান বেশ কয়েকদিন আগেই কাটার উপযোগী হয়েছিল। তবে শ্রমিকের উচ্চ মজুরির কারণে তিনি ধান কাটাতে পারছিলেন না। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনের সহায়তায় ধান কাটতে পারায় তিনি কৃতজ্ঞতা জানান।
একইভাবে কৃষাণী জোছনা বেগম বলেন, স্বামী পরিত্যক্ত হওয়ার পর প্রতিবন্ধী সন্তান ও দুই মেয়েকে নিয়ে তিনি মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দেড় কেদার জমিতে উৎপাদিত ধানই ছিল তার পরিবারের প্রধান ভরসা। কিন্তু শ্রমিক সংকট ও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ধান কাটতে না পেরে দুশ্চিন্তায় ছিলেন। প্রশাসনের উদ্যোগে তার জমির ধান কেটে দেওয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ কার্যক্রমে ইউএনও সনজীব সরকার ছাড়াও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনোরঞ্জন অধিকারী, পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী আব্দুল কাইয়ুমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন।
ইউএনও সনজীব সরকার বলেন, সুনামগঞ্জের মধ্যে দিরাই উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদিত হয়। তবে চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকেরা নানা সমস্যার মুখোমুখি হয়েছেন। পাশাপাশি কৃষিকাজে যান্ত্রিক নির্ভরতা বাড়ায় মৌসুমি শ্রমিকের সংকটও প্রকট হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ছুটির দিনে স্বেচ্ছায় মাঠে নেমেছেন, যাতে কৃষকদের কিছুটা সহায়তা করা যায়। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকেও কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।