বাগেরহাট শহরে আকস্মিক এক ঝড়ে শতাধিক বসতবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অল্প সময়ের এই ঝড়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়, যার ফলে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে যায়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত সাড়ে ১১টার দিকে হালকা বৃষ্টির পর হঠাৎ করেই তীব্র দমকা হাওয়া শুরু হয়। মাত্র এক মিনিটেরও কম সময় স্থায়ী এই ঝড়ে শালতলা, সাধনার মোড়, পুরাতন কোর্ট মসজিদ এলাকা, রেলরোড, প্রেসক্লাব ও লঞ্চঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে ঘরবাড়ির টিনের ছাউনি উড়ে যায় এবং পাকা স্থাপনার জানালার কাঁচ ভেঙে পড়ে। পাশাপাশি এসির আউটডোর ইউনিট, বিলবোর্ড, বৈদ্যুতিক মিটার এবং গাছপালা উপড়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষতির সৃষ্টি করে।
ঝড়ের প্রভাবে শহরের বিভিন্ন সড়কে গাছ পড়ে যোগাযোগে বিঘ্ন ঘটে এবং বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরে বিদ্যুৎ বিভাগ রাত থেকেই মেরামত কাজ শুরু করে এবং শুক্রবার দুপুর নাগাদ বেশিরভাগ এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধার করা হয়। সকালে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের গাছ কেটে সড়ক পরিষ্কার করতে দেখা যায়।
ক্ষতিগ্রস্তদের বক্তব্য অনুযায়ী, ঝড়ের তীব্রতায় মুহূর্তের মধ্যেই ঘরবাড়ি ও দোকানের ছাউনি উড়ে যায় এবং অনেক স্থাপনায় ভাঙচুর ঘটে। বিভিন্ন এলাকায় সার, কীটনাশক, সিমেন্ট, কাপড়, ফার্নিচার, বেকারি ও অন্যান্য দোকানসহ অর্ধশতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ক্ষতির মুখে পড়ে। কয়েকটি ভবনের ছাদের অংশ ধসে পড়ার খবরও পাওয়া গেছে। জেলা প্রশাসকের বাংলোতেও ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
শহরের বাইরে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকেও গাছ উপড়ে পড়া এবং মাঠের পাকা ধান নুয়ে পড়ার খবর মিলেছে, যা কৃষকদের জন্য নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বাগেরহাটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং জরুরি ভিত্তিতে সড়ক পরিষ্কারসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এদিকে জেলা প্রশাসন এখনো পর্যন্ত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব সংগ্রহ করতে পারেনি। জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিভিন্ন উপজেলা থেকে তথ্য সংগ্রহ চলছে এবং ক্ষতির পরিমাণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের প্রস্তুতি নেওয়া হবে।