নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও হত্যার হুমকির ঘটনায় তিন নেতাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।
বুধবার দুপুরে কলেজের অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ঘটনাটি ঘটে। সদ্য সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক জাকির হোসেন সস্ত্রীক দাপ্তরিক কাজে এলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও কয়েকজন শিক্ষক একসঙ্গে মধ্যাহ্নভোজে বসেন। এ সময় কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিতে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, হামলাকারীরা শিক্ষকদের খাবার কেড়ে ভাঙচুর করে, আসবাবপত্র তছনছ করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে। বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তার শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ঘটনার পর শিক্ষক পরিষদ জরুরি সভায় অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতিসহ ৬ দফা দাবি ঘোষণা করে। দাবির মধ্যে রয়েছে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও থানায় মামলা দায়ের। শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েল বলেন, আন্দোলন ছাড়া এই পরিস্থিতিতে আর কোনো উপায় নেই।
এই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল কলেজ শাখার সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওনকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে। সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাস স্থগিত এবং সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, শিক্ষকদের ওপর হামলা ন্যক্কারজনক এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড ছাত্রদল কখনো সমর্থন করে না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আক্তারুজ্জামান বিশাল দাবি করেছেন, শিক্ষকরাই নিজেদের কার্যালয় ভাঙচুর করে ছাত্রদলের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। এদিকে সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, কলেজ প্রশাসনের অনুরোধে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।