ঝড়-বৃষ্টি ও বর্ষা মৌসুমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানি দূষণ ও পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে বন্যা বা জলাবদ্ধতার সময় নলকূপ, পুকুর ও অন্যান্য পানির উৎস দূষিত হয়ে পড়ে, যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করে। তাই এ সময় নিরাপদ পানি ব্যবহারে সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
বর্ষাকালে ডায়রিয়া, আমাশয়, টাইফয়েডসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। এর মূল কারণ হলো দূষিত পানি পান করা বা রান্নায় ব্যবহার করা। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ না জেনেই দূষিত পানি ব্যবহার করে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।
বর্ষার সময় অবশ্যই ফুটানো পানি পান করা নিরাপদ। পানি অন্তত ১০-১৫ মিনিট ভালোভাবে ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে সংরক্ষণ করতে হবে। পাশাপাশি পানি সংরক্ষণের পাত্র অবশ্যই পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত হওয়া জরুরি, যাতে বাইরের ময়লা বা জীবাণু প্রবেশ করতে না পারে।
বন্যা বা জলাবদ্ধ এলাকায় নলকূপের পানি অনেক সময় দূষিত হয়ে যায়। তাই এসব এলাকার মানুষকে আরও বেশি সতর্ক থাকতে হবে। প্রয়োজনে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বা ফিল্টার ব্যবহার করা যেতে পারে।
এছাড়া খাবার গ্রহণের আগে এবং টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশুরা যেন অপরিষ্কার পানি পান না করে, সে দিকেও অভিভাবকদের বিশেষ নজর রাখতে হবে।সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষকে এ বিষয়ে সচেতন করা জরুরি।
সচেতনতা ও সতর্কতার মাধ্যমে বর্ষাকালে পানিবাহিত রোগ থেকে নিজেকে ও পরিবারকে নিরাপদ রাখা সম্ভব। তাই এখনই সচেতন হোন এবং নিরাপদ পানি ব্যবহারে গুরুত্ব দিন।