শিক্ষক নিয়োগে আমূল পরিবর্তন: মে মাসেই ৭৮ হাজার পদের বিশাল বিজ্ঞপ্তি

আপলোড সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১২:৩২:৫০ অপরাহ্ন , আপডেট সময় : ২২-০৪-২০২৬ ১২:৩২:৫০ অপরাহ্ন
বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রবেশ পদে শিক্ষক নিয়োগ পদ্ধতি বদলে যাচ্ছে।

এতদিন নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের কাছ থেকে শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন নিয়ে তাদের নিয়োগ সুপারিশ করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের সরাসরি শূন্য পদে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্য থাকা প্রায় ৭৮ হাজার পদে নতুন পদ্ধতিতে সহকারী শিক্ষক, প্রভাষক ও ইন্সট্রাকটর পদে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ-এনটিআরসিএ।

আসছে মে মাসের শুরুতেই এসব পদে নিয়োগ ও নিবন্ধনে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে আশা করছেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

নতুন পদ্ধতিতে যেভাবে নিয়োগ সুপারিশ:

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে জারি করা বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা গ্রহণ, নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন বিধিমালা-২০২৫ এর আলোকে এ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর প্রস্তুতি নেওয়ার কথা বলেছেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান।

মঙ্গলবার তিনি  বলেন, "এ ক্ষেত্রে আমরা প্রার্থীদের নিবন্ধন পরীক্ষা নেব, পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সরাসরি প্রার্থীকে একটি শূন্য পদের বিপরীতে নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।”

আগের বিধিমালা অনুযায়ী শূন্য পদের অতিরিক্ত ২০ শতাংশ প্রার্থীকে নিবন্ধিত করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শূন্য পদের সমান সংখ্যক প্রার্থীকে উত্তীর্ণ করে তাদের নিয়োগ সুপারিশ করা হবে বলে জানান আমিনুল ইসলাম।

২০০ নম্বরের লিখিত ও ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা:

আগে প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রার্থীদের চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ করা হলেও নতুন পদ্ধতিতে শুধু লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে প্রার্থীদের নিবন্ধিত ও নিয়োগ সুপারিশ করা হবে।

আমিনুল ইসলাম বলেন, নতুন পদ্ধতিতে নিবন্ধনের লিখিত পরীক্ষা হবে এমসিকিউ পদ্ধতিতে। ২০০ নম্বরের এ পরীক্ষায় যারা উত্তীর্ণ হবেন তাদের ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে।

“মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের আমরা নিয়োগ সুপারিশ করব, একইসঙ্গে নিবন্ধন সনদও দেব। উত্তীর্ণ হতে মৌখিক ও লিখিত পরীক্ষায় আলাদাভাবে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।"

৭৮ হাজার শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি মে মাসে:

এনটিআরসিএ চেয়ারম্যান বলছেন, এবারই প্রথম নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। বিজ্ঞপ্তিটি নবম এনটিআরসিএ (শিক্ষক) নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি নামে পরিচিত হবে।

বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে শূন্য পদের চাহিদা সংগ্রহ করা হয়েছে। স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৭৯৯টি শূন্য পদ পাওয়া গেছে।

এখন এসব শূন্য পদ যাচাই-বাছাই শেষে বিজ্ঞপ্তি চূড়ান্ত করা হবে। এরপর তা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে মন্ত্রণালয়ে। এরপর বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

মে মাসের শুরুতে এ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আশা প্রকাশ করে আমিনুল ইসলাম বলেন, "আশা করছি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষ ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি পত্রিকায় প্রকাশ করা যাবে।"

বর্তমানে দেশে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৪ হাজার ১২৯টি। যেখানে ৫ লাখ ৯৮ হাজার ৯৯৪ জন শিক্ষক এবং ২ লাখ ৬ হাজার ৬৯৯ জন কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন।

‎এনটিআরসিএ থেকে জানা যায়, গত ৯ ফেব্রুয়ারি এনটিআরসিএ অনলাইনে শিক্ষকদের শূন্য পদের চাহিদা আহ্বান করে, যা ই-রিকুইজিশন নামে পরিচিত।

কয়েকদফা মেয়াদ বাড়ানোর পর তা শেষ হয় গত ১৫ এপ্রিল। পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদ কার্যক্রমও (ই-রেজিস্ট্রেশন) সম্পন্ন হয়েছে।

শিক্ষক সংকট কাটার আশা:

বেসরকারি এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চলছে। এর আগে ‎গত ৫ জানুয়ারি শেষবারের মত শিক্ষক নিবন্ধনে ইতোমধ্যে উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নিয়োগ সুপারিশের জন্য সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল এনটিআরসিএ।

পরে গত ২৮ জানুয়ারি প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১১ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগের সুপারিশ করে এনটিআরসিএ। ৫৫ হাজার ৪৯৫টি পদই শূন্যই থেকে যায়।

শূন্যপদের বিপরীতে একই বিষয়ে নিবন্ধিত প্রার্থী বা আবেদনকারী না থাকায় এ পদগুলো খালি রয়ে গিয়েছিল বলে তখন জানিয়েছিল এনটিআরসিএ।

এমন বাস্তবতায় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বাড়াতে অবসরপ্রাপ্ত ও শারীরিকভাবে সক্ষম শিক্ষকদের দারস্থ হয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক সংকটের মুখে উপজেলার পর্যায়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের পুল গঠন করে তাদের প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব তহবিলের ব্যয়ে নিয়োগ দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালানোর ব্যবস্থা করতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, শিক্ষা বোর্ড, সব জেলা প্রশাসক-ডিসি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা-ইউএনওদের গত ৯ এপ্রিল নির্দেশনা দেয় মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ।

নতুন পদ্ধতিতে নিয়োগ শুরু হলে দীর্ঘদিনের শিক্ষক সংকট কাটবে বলে আশা প্রকাশ করেন এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, “আশা করছি নতুন পদ্ধতিতে নিবন্ধন পরীক্ষার মাধ্যমে একবারেই শূন্য পদে নিয়োগের জন্য প্রার্থী বাছাই করা সম্ভব হবে। এর ফলে শিক্ষক সংকট কাটবে।

“আর শূন্যপদের বিপরীতের সরসারি প্রার্থী বাছাই হয়ে যাবে তাই নিবন্ধিত হয়েও নিয়োগ সুপারিশ না পাওয়ার যে অভিযোগ শোনা যায় তা আর শোনা যাবে না।”

‎২০০৫ সাল থেকে এনটিআরসিএ শিক্ষক নিবন্ধন সনদ দিচ্ছে। তবে শুরুর ১০ বছর শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ছিল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার এনটিআরসিএকে সনদ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতাও দেয়। এরপর সাতটি গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত ১ লাখ ৮৬ হাজার ২৩৮ জন শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত সুপারিশ করেছে এনটিআরসিএ।

বর্তমানে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহকারী প্রধানের ১২ হাজার ৯৫১ পদে নিয়োগের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।

সম্পাদকীয় :

লাইসেন্স নং: TRAD/DNCC/013106/2024 বার্তা বিভাগ: [email protected] অফিস: [email protected]

অফিস :

যোগাযোগ: মিরপুর, শেওড়াপাড়া হটলাইন: 09638001009 চাকুরী: [email protected]